যেকোনো বিষয় নিয়েই বিতর্কিত মন্তব্য যেন অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করেই চলেছেন কঙ্গনা রানাওয়াত। কখনো সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু নিয়ে বলিউডের তারকাদের সরাসরি আক্রমণ, কখনো রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কটাক্ষ। বিতর্ক তৈরি করে আজকাল যেন লাইম লাইটেই থাকতে চাইছেন তিনি।

মুম্বইকে পাক অধিকৃত কাশ্মীর বলার পর থেকেই কঙ্গনা রানাওয়াতের সঙ্গে দূরত্ব মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুম্বইয়ের বিজেপি কর্মীদের। এমনকী তাঁরা কঙ্গনার ট্যুইটের বিরোধিতা করে বলেছেন, ‘যিনি মুম্বইকে সমর্থন করেন না, তাঁকে আমরা সমর্থন করি না। মুম্বই ও মহারাষ্ট্র নিয়ে কঙ্গনা খুব ঘৃণ্য মন্তব্য করেছেন। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু তদন্ত থেকে অন্যদিকে নজর ঘোরাতে এগুলো কঙ্গনার চাল’। এদিকে কঙ্গনার দাবি বিজেপি এর আগে তাঁকে দুবার ভোটের টিকিট দিতে চেয়েছিল।

কিন্তু তিনি তা নিতে রাজি হননি। এছাড়াও যে কোনও প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদের তুলনায় তাঁর বার্ষিক আয় অনেক বেশি। এমনকী কিছু মন্ত্রীর থেকেও বেশি। সেই সঙ্গে জনপ্রিয়তাও। কাজেই তাঁকে এসব বলার আগে একটু বুদ্ধি খরচ করে কথা বলা উচিত। মুম্বইয়ের বিজেপি মুখপাত্র জানিয়েছেন, মহারাষ্ট্র সম্বন্ধে এরকম মন্তব্য করায় কঙ্গনাকে তাঁরা কোনও দিক থেকেই উৎসাহ দেবেন না। এমনকী শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউতকে অনুরোধ করা হয়েছে, যতদিন সুশান্তের মৃত্যু মামলা চলবে ততদিন তিনি যদি কঙ্গনার কথায় কোনও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন তাহলে খুবই ভালো হয়।

শুক্রবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘আমরা মহারাষ্ট্রবাসীরা সেই ১০৬ শহিদের কথা কখনও ভুলব না। যাঁরা আমাদের বিপদের দিনে রক্ষা করেছিলেন। প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। কঙ্গনা একবার পাকিস্তান থেকে ঘুরে এসে তারপর এইরকম মন্তব্য করতে পারতেন। কঙ্গনা মুম্বই পুলিশকে অপমান করেছেন। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করব একটি সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য’।

এছাড়াও তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, এরপর মুম্বই নিয়ে কোনও রকম বিরূপ মন্তব্য করলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুম্বইয়ে কঙ্গনার থাকার যে কোনও অধিকার নেই একথা সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ।

27