৪/৯/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ

ভারতকে কাশ্মীরে প্যালেট গানের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে বললো আন্তর্জাতিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। গত ২৯শে আগস্ট কাশ্মীরে মহরম উপলক্ষে একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা বের হয়।রাজ্যের করোনা পরিস্থিতিতে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ থাকা স্বত্ত্বেও এই শোভাযাত্রা বের করার হয়েছিল বলে কাশ্মীর পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরা এই মিছিল আটকায়। ফলে নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে জমায়েতকারী কাশ্মীরীদের গন্ডগোলের সূত্রপাত হয়।কিছু পুলিশ পুলিশকে পাথর ছোঁড়ে বলে অভিযোগ করে পুলিশের পক্ষ থেকে ১৫জনেরও বেশি পুলিশ কর্মীর আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে এই সময়ই প্যালেট গানের ব্যবহার করে পুলিশ।

এই ঘটনার যার জেরে বহু মানুষ আহত হন । এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়ার নির্দেশক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেছেন “আরও একবার ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা কাশ্মীরে প্যালেটগানের ব্যবহার করলো যার ফলে প্রতিবাদীদের অনেকেই মারাত্মক ভাবে জখম হয়েছেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে বুঝতে হবে যে, বহু মানুষের জমায়েতে প্যালেট গানের মত হাতিয়ারের ব্যবহার গভীর ও মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি করে যা আন্তর্জাতিক নিয়মের পরীপন্থী।এমনকি খুব হিংসাত্মক বিক্ষোভের ক্ষেত্রেও এই অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংযত হওয়া উচিত।”

উল্লেখ্য,কাশ্মীদের বিক্ষোভ আন্দোলনে নিরাপত্তা রক্ষীরা বারংবার প্যালেট গানের ব্যবহার করে আসছে যার ফলে বহু কাশ্মীরি ছেলে মেয়ে দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছে।গভীর আঘাত তৈরি হয়েছে।এই ঘটনার পরেই ভারতকে প্যালেট গানের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে বলা হয়েছে।

পুলিশ প্যালেট ছোঁড়ার জন্য ১২গজের একটি পাম্প অ্যাকশন গান ব্যবহার করে যার ভেতরে ভরা গুলিতে থাকে এক ডজন থেকে শতাধিক ছোট ছোট ধাতুর প্যালেট বা টুকরো। যাকে ছদ্মনামে অনেক সময় ‘বার্ডশট’ বা ‘ডাভশট’ বলে উল্লেখ করেন নিরাপত্তা রক্ষীরা।

ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে যে, নিরাপত্তা রক্ষীরা অত্যন্ত হিংসাত্মক ভিড়তে ছত্রভঙ্গ করতেই প্যালেট গানের ব্যবহার করে থাকে। যদিও প্যালেট গানের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবের কথা মাথায় আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী কোনও হিংসাত্মক ভিড়ের ক্ষেত্রেও এই অস্থায়ী ব্যবহার নিষিদ্ধ।


ছবি-সংগৃহিত’

11