কৃষ্ণাঙ্গ যুবক হত্যায় উত্তাল আমেরিকা, বিক্ষোভকে ঘরোয়া সন্ত্রাস বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ওয়েব ডেস্ক সেপ্টেম্বর ৩,২০২০: কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জ্যাকব ব্লেককে হত্যার ঘটনায় উত্তপ্ত আমেরিকা। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেই কেনোশা শহর অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে বিক্ষোভের আগুনে।

কিছুদিন আগে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যাক্তিকে হত্যা করেছিল পুলিশ। একই ভাবে সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে জ্যাকব ব্লেক নাম আর এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে হত্যা করেছে আমেরিকার পুলিশ। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর থেকেই ‘ব্ল্যাক লাইভ ম্যাটারস’ স্লোগানে তুলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আমেরিকানরা। আমেরিকার সাথে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই আন্দোলন।

জ্যাকব ব্লেকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সে আগুন আরো ছড়ালো। জ্যাকব ব্লেক্যনামের এক যুবক তার পরিবারকে নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে ছিলেন। কোন কাজের জন্য গাড়িতে তার বাচ্চাদের রেখে খানিকক্ষণের জন্য নেমেছিলেন ব্লেক। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই পুলিশ তাকে পেছন থেকে গুলি করে। সাতটি গুলি করা হয় তার শরীরে। প্রত্যেকটি গুলি তার শরীরের পেছনদিকে লাগে। তার শিরদাঁড়া কয়েকটি টুকরোয় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্লেক। কিন্তু ডাক্তাররা জানিয়ে দিয়েছেন শিরদাঁড়া চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়ায় কোনদিনই আর স্বাভাবিক ভাবে দাঁড়াতে পারবেন না ব্লেক।
যদিও তার আইনজীবী বলেছেন যে এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়বো। দোষী পুলিশ কর্তাদের শাস্তি প্রদানের জন্য তিনি আইনগত পদ্ধতিতে যতদূর যাওয়া যায় ততটাই যাবেন। কিন্তু গত ১লা সেপ্টেম্বর শহরেরপরিস্থিতি দেখতে আসা মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক মন্তব্যে এই চেষ্টায় কতদূর সফল হবেন ব্লেকের আইনজীবী তাতে প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিয়েছে।

পরিস্থিতি যখন অগ্নিগর্ভ, যখন বিক্ষোভে ফুঁসছেন মানুষ ঠিক তখনই আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখানে গিয়ে দোষী পুলিশ অফিসারদের পাশেই দাঁড়ালেন এবং মানুষের বিক্ষোভকে স্পষ্টভাষায় সন্ত্রাস বলে দাগিয়ে দিলেন।তিনি জানান এই বিক্ষোভ মোটেও শান্তিপূর্ণ ছিল না। এটি একটি ঘরোয়া সন্ত্রাস।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন বক্তব্যে বিক্ষোভ আরও উত্তপ্ত হয়েছে। কিন্তু কেন পরিস্থিতি এরকম অগ্নিগর্ভ দেখেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের দেশের বিক্ষোভকারীদের ঘরোয়া সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সবাই। দেশের সরকার যে কোন উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করে কিন্তু রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প কেন বিক্ষোভ কে সন্ত্রাস বলে উল্লেখ করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সারা পৃথিবীতে।

162