করোনা এবং দীর্ঘ লকডাউনের ধাক্কায় ইতিমধ্যেই ভারতের অর্থনীতির অবস্থা অত্যন্ত দুর্বিষহ। জিডিপি ঋণাত্মক মাত্রায় নেমেছে, যা গত ৪০ বছরের ইতিহাসে ঘটেনি। গ্রামেই হোক কি শহরে কাজ হারিয়েছেন কোটি কোটি মানুষ। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই এই অসহায়ত্বের ছবি। ঘরে হাঁড়ি চড়ছে না দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজনের। বিরোধীদের সমালোচনায় বিদ্ধ কেন্দ্রের শাসক সরকার। এবার তাই শহরে থাকা সেই কাজহারা মানুষগুলোর কর্মসংস্থান করতে গ্রামের ধাঁচেই ‘১০০ দিনের কাজ’ প্রকল্প আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এতদিন শুধুমাত্র গ্রামাঞ্চলেই এই প্রকল্পের কাজ হতো। তবে এবার থেকে শহরাঞ্চলেও বেকারদের পাশে দাঁড়াতে কর্মসংস্থান প্রকল্প এনআরইজিএ (NREGA) র প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে আপাতত বড় শহরগুলোতে নয় বরং দেশের ছোট ছোট শহরগুলিতে ‘১০০ দিনের কাজ’ চালুর ভাবনাচিন্তা করছে সরকার। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় আবাস ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, ছোট শহরেও এই প্রকল্পের কাজ হতে পারে। গত বছর থেকে এ বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করছে সরকার। তবে এখন বর্তমান পরিস্থিতির জেরে এই পরিকল্পনাকে আরও ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৫০ বিলিয়ন টাকা খরচ হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, চলতি বছরে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের প্রকল্পে ১ ট্রিলিয়নেরও বেশি টাকা ঢেলেছে কেন্দ্র সরকার। যে প্রকল্পে কর্মীরা বছরে ১০০ দিনের কাছে দিনপ্রতি ২০২ টাকা করে উপার্জন করছেন। মহামারী আবহে বিরোধীদের তরফে বারবার দাবি তোলা হয়েছিল, যাতে শহরাঞ্চলেও ১০০ দিনের কাজ চালু করা হয়। এবার তাঁদের সেই দাবিকে কার্যত সায় দিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। প্রসঙ্গত এর আগে ২০০৮ সালে কেন্দ্রে ইউ পি এ-২ সরকার থাকাকালীন বামেদের চাপে পরেই মূলত এই NREGA প্রকল্প চালু হয় দেশজুড়ে। মূলত গ্রামীন কর্মসংস্থানের জন্যই এই প্রকল্প। যদিও এক্ষেত্রে বামেদের দাবি মতো বছরে ২০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা রক্ষিত হয়নি। তবুও একথা নিঃসন্দেহে সত্য যে, এই প্রকল্পের জেরে গ্রামীন অঞ্চলের বহু পরিবারে কাজের ও দু মুঠো অন্নের সংস্থান হয়েছে। তাই বর্তমান বিপুল কর্মহীনতার পরিপ্রেক্ষিতে ছোট শহরাঞ্চলে ও এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হওয়া খুবই প্রয়োজন। তবে শুধু জব কার্ড বিলি বা কাজ করানোই নয়। বরং সময়মতো সেই কাজের মজুরি প্রদানের ও ব্যবস্থা হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিছুদিন আগেই এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, উত্তরবঙ্গেরই জেলাগুলোতে বিগত ১৮ মাসে এই ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে বকেয়া মজুরির পরিমান প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাছাকাছি। একেই দীর্ঘ কর্মহীনতা, তার উপরে আবার সরকারি প্রকল্পে কাজ করিয়ে মজুরি বকেয়া থাকলে আখেরে পরিস্থিতি আরোই জটিল হয়ে উঠবে বলে বিরোধীদের বক্তব্য।

8