প্যাংগং এ নতুন করে উত্তেজনার পরিস্থিতিতেই পিনাকা রকেট লঞ্চার কিনতে ২,৫৮০ কোটি টাকার চুক্তি করলো প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। পিনাকা রকেট লঞ্চার কিনতে দু’টি দেশীয় নামী সংস্থার সঙ্গে সোমবার মোটা অঙ্কের আর্থিক চুক্তি করল কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ভারতীয় সেনার ছ’টি রেজিমেন্টের জন্য এই রকেট লঞ্চারগুলি কেনার বরাত দেওয়া হয়েছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের খরচ হবে ২,৫৮০ কোটি টাকা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি আরও বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত এলাকায় পিনাকা রেজিমেন্ট মোতায়েন করা হবে।
সূত্রের খবর, টাটা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (TPCL) ছাড়াও ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা লারসন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-র সঙ্গে এই চুক্তি হয়েছে। এই দু’টি ভারতীয় সংস্থাই প্রতিরক্ষার সরঞ্জাম তৈরি করে। প্রতিরক্ষা পাবলিক সেক্টরের আন্ডারটেকিং ভারত আর্থ মুভারস লিমিটেড (BEML)-ও এই চুক্তির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, BEML গাড়ির জোগান দেবে। ওই গাড়িগুলিতেই বসবে টাটা ও লারসনের তৈরি লকেট লঞ্চার।
কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে সোমবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ৬ পিনাকা রেজিমেন্টের হাতে সবমিলিয়ে ১১৪টি রকেট লঞ্চার থাকবে। সেইসঙ্গে অটোমেটেড গান অ্যামিং এবং পজিশনিং সিস্টেম, বা AGAPS-ও থাকবে। এ জন্য ৪৫টি ‘কম্যান্ড পোস্ট’ও থাকবে। কেন্দ্রের লক্ষ্য, ২০২৪ সালের মধ্যে এই মিসাইল রেজিমেন্টকে পুরোপুরি কার্যকর করে তোলা।

পিনাকা মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম দেশীয় প্রযুক্তিতে ডিজাইন করেছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। এই সামরিক অস্ত্রের ৭০ শতাংশই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। প্রকল্পটির অনুমোদন করেছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেম পিনাকা তার মারণ ক্ষমতার প্রমাণ আগেও দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মারণ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিতে আরও বদল ঘটিয়ে এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা বহুগুণে বাড়ানো হয়েছে। মার্ক-১-এ এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৪০ কিলোমিটার, আর মার্ক-২-তে ৭৫ কিলোমিটার। ডিআরডিও জানিয়েছে, বর্তমানে এই মিসাইলের পাল্লা আরও বাড়ানো হয়েছে। ৯০ কিলোমিটার দূরত্বের যে কোনও বস্তুকে নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত করতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র।

15