কোভিড পরিস্থিতিতে এ বছর জনগণনা এবং ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার বা এনপিআরের কাজ বন্ধ থাকবে।কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে নতুন বছর থেকে এই কাজ শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের জনগণনা পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্‍ প্রশাসনিক ও পরিসংখ্যানগত কাজ বলে উল্লেখ করা হয়।সারা দেশে আমলা সহ কমপক্ষে ৩০ লক্ষ সরকারিকর্মীকে এই কাজে যোগ দিতে হবে।প্রতিটি নাগরিকের বাড়ি বাড়ি ঘুরে এই কাজ করবেন তাঁরা। আর কোভিড পরিস্থিতিতে এ ধরনের কাজ অত্যন্ত ঝুঁকি পূর্ণ বলেই বলে মত বিশেষজ্ঞদের। পিটিআই সূত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী এক শীর্ষ সরকারি অফিসার জানিয়েছেন যে, ‘এখনকার জন্য জনগণনা অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এক বছর পিছিয়ে গেলেও কোনও ক্ষতি নেই।’ সরকারের আর এক শীর্ষ আধিকারিকেরও মতে, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতি এখনও বড় আশঙ্কা তৈরি করছে। এই মুহূর্তে সরকারের কাছে জনগণনা বা এনপিআর অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই।’

নতুন বছরের কোন সময় এই কাজ পুনরায় শুরু হবে তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি বলেই জানা গেছে।
তবে সারা বিশ্বের সাথে সারা দেশের ভয়াবহ স করোনা ভাইরাসের আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণনার মত কাজ যা বহু মানুষের সরাসরি সংস্পর্শে না এসে কা যাবে না তা যে এবছরের মত মুলতুবি করা হয়েছে সে কথা মোটামুটি নিশ্চিত ভাবেই জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত সেনসাস ও এনপিআর-এর প্রক্রিয়া চলতি বছর পয়লা এপ্রিল থেকে শুরু করে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল। প্রাথমিকভাবে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য করোনা পরিস্থিতির পূর্বেই জনগণনা এবং এনপিআর ও এনআরসির কাজ নিয়ে সারাদেশে তুমুল গণ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও সরাসরি সেই আন্দোলনে শামিল হয়েছিল । সেই সময়ে এনপিআরের কাজ বন্ধ করারও দাবি তোলা হয়েছিল সেই আন্দোলন গুলিতে। করোনা পরিস্থিতির ফলে আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায় কিন্তু সেই করোনা পরিস্থিতির কারণেই আপাতত বাতিল করা হলো এনপিআরের কাজ এমনটাই মনে করা হচ্ছে সংবাদ সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে। এনপিআর ও জনগণনার কাজ শুরু হলে আবার সেরকমই গণবিক্ষোভ দেখা যাবে কিনা তা বলবে ভবিষ্যৎ।

14