দিনের আলোয় প্রকাশ্য রাস্তায় এলোপাথারি গুলি চালাতে একদল মানুষ আর এক দল মানুষ কে তাড়া করছে। এই হাড় হিম করা দৃশ্য দেখা গেল মুর্শিদাবাদের ডোমকলের রঘুনাথপুর এলাকায়, রবিবার দুপুরে। তৃণমূলের বুথ সভাপতির নেতৃত্বে বন্দুক উঁচিয়ে দুষ্কৃতী বাহিনী দেদার গুলি চালাল দলেরই অন্য গোষ্ঠীর সমর্থকদের লক্ষ করে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ দিনের সংঘর্ষে আনোয়ার সাইদ জনি নামের এক তৃণমূল কর্মী গুরুতর জখম হয়ে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ঘটনার জেরে আক্রান্তের পরিবার ডোমকল থানায় ৯ জনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রবিবার সন্ধ্যায়।

যদিও এ ব্যাপারে মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় সরকার বলেন, “থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এর বেশি এখন কিছু বলা সম্ভব নয়।”

জানা গিয়েছে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই রঘুনাথপুর এলাকায় তৃণমূল কর্মী তথা ব্যবসায়ী আনোয়ারের সাথে পার্শ্ববর্তী আর এক তৃণমূল কর্মী, ব্যবসায়ী পিন্টুর পরিবারের ঝামেলা চলছে। মূলত ফুটপাতের ওপর আনোয়ারের দোকানের চাল দেওয়া কে কেন্দ্র করে।

রবিবার দিন পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, পিন্টু নামের ওই কর্মী আনোয়ারকে শিক্ষা দিতে পার্শ্ববর্তী বাবলাবোনা গ্রামের তৃণমূলের বুথ সভাপতি রাজ্জাক শেখ সফতারের সাগরেদ আসাদুল সেখ ও অন্যান্যদের ডেকে আনে।

এর পরেই পিন্টুর কথামতো ওই তৃণমূলের বুথ সভাপতি রাজ্জাক ও তার দলবল আনোয়ারের এলাকায় প্রবেশ করে পিস্তল উঁচিয়ে প্রকাশ্যে গুলি ছুড়তে থাকে। পরপর ৬ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় আর তার ফলেই গুলিবিদ্ধ হয় তৃণমূল কর্মী আনোয়ার। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে রাজ্জাক ও তার দলবল বন্দুক উঁচিয়ে শূন্যে গুলি ছুড়তে ছুড়তেই এলাকা ছাড়ে।

অবশ্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা মানতে চাননি মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ ও জেলা তৃণমূল সভাপতি আবু তাহের খান বলেন, “ প্রাথমিক ভাবে যা জেনেছি, তাতে তৃণমূলের কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ব্যাপার নেই। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ব্যক্তিগত ঝামেলা থেকেই এই কাণ্ড ঘটেছে। বাকিটা আইন আইনের মতো কাজ করবে।”

18