ওয়েবডেস্ক,আগস্ট,৩০,২০২০: দেশে লাফিয়ে বাড়ছে করোণা সংক্রমণ। দৈনিক সংক্রমণে এই মুহূর্তে ভারত বিশ্বের বাকি দেশগুলিকে পিছনে ফেলে নজির তৈরি করেছে। রোজ যদি ৭০ হাজারের উপর সংক্রমণ হয়, তা যে কোনও দেশের স্নায়ুচাপ বাড়ানোর পক্ষে যথেষ্ট। তবে, শনিবার (২৯ অগস্ট) আশার কথা শোনালেন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। তিনি জানিয়েছেন, ভারতে করোনা রোগীর মাত্র ০.২৯ শতাংশ বর্তমানে ভেন্টিলেটরে আছেন।

যার অর্থ, কোভিডের সেই প্রাণঘাতী রূপ এখন অনেকটাই স্তিমিত। এই স্বস্তিতে কেন্দ্র যে করোনা নিয়ন্ত্রণের রাশ হালকা করছে, তেমন কোনও ইঙ্গিত নেই। বরং বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিদের নিয়ে যে বৈঠক হয়েছে, সেখানেও কোভিডে মৃত্যুহার কমিয়ে আনার উপর জোর দিতে বলা হয়। পাশাপাশি দৈনিক কোভিড টেস্টের সংখ্যাও বাড়াতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্র প্রথম থেকেই টেস্টের উপর জোর দিয়ে এসেছে। তার কারণ, রাজ্যগুলিতে টেস্টের হার বাড়লে, করোনা পজিটিভদের দ্রুত চিহ্নিত করে, সেইমতো চিকিত্‍‌সার ব্যবস্থা করা যাবে। তাতে মৃত্যুর হার কমে আসবে। কেন্দ্রের এই কৌশলে যে কাজ দিয়েছে, তা কোভিডে জাতীয় মৃত্যুহারই বলে দেয়। মৃত্যুহার ২ শতাংশের নীচে নেমে এসেছে।

কোভিড টেস্ট বাড়ানোর ক্ষেত্রে রাজ্যগুলি অভাবনীয় না উন্নতি করলে, এই সাফল্য অর্জন সম্ভব ছিল না। পশ্চিমবঙ্গে বাড়তে বাড়তে এখন দৈনিক ৪০ হাজারের উপর কোভিড টেস্ট হচ্ছে। আরও ভালো কাজ করছে নীতীশ কুমারের রাজ্য বিহার। বিহারে গড়ে প্রায় এক লক্ষের কাছাকাছি টেস্ট হচ্ছে।

শনিবার মন্ত্রিগোষ্ঠীর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ছিল। সেখানেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে ০.২৯ শতাংশ কোভিড রোগী ভেন্টিলেটর সাপোর্টে আছেন। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি কেন্দ্রের সঙ্গে যে ভাবে সমন্বয় রেখে চলছে, তা নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন হর্ষ বর্ধন।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বৈঠকে আরও জানান, অক্সিজেন সাপোর্টে রাখতে হয়েছে ২.৮৮ শতাংশ রোগীকে। আইসিইউতে আছেন ১.৯৩ শতাংশ রোগী। তিন জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় গোটা দেশে ৯ লক্ষ নমুনার কোভিড টেস্ট হয়েছে। যদিও, কেন্দ্রের টার্গেট ছিল, অগস্ট শেষে দৈনিক ১০ লক্ষ করে কোভিড টেস্ট করা। এর মধ্যে একবার সেই লক্ষ্যে পৌঁছনো সম্ভবও হয়েছিল। তবে, সেই লক্ষ্যমাত্রা ধরে রাখতে পারেনি দেশ।

12