মনিষার বয়স মাত্র পাঁচ বছর,এস.এস.কে.তে সবে ভর্তি হইছে।আইনুল সবে চার,স্কুলে ভর্তি করায়নাই।এই দুই জনের পেটে কত টুকুই আর খানা লাগে,তাই জোটানো হিমসিম।গোরুর বাছুরটার বয়স আট মাস হয়ে গেল্,আর দুধ দিবেনি।এই দুইটা সঙ্গ ধরিলে কেউ কাজে রাখতে পসন্ করছেনি।সায়রা ভাইবে কুল পায়না।যখন ইমরান বাহিরে ছিলো,মাসে মাসে ভালো পাইসা পাঠাইতো।রেশনের চাউল তখন মুখে রুচতো না।গাঁয়ের এক নেতা ছে,সাজাহান মাসে দুইশো টাকা হিসাবে কার্ডটা লিয়ে লিছে,শুধু তেল টুকু দিয়ে যায়।কিন্তু মারণ ব্যাধিটা আসার পর থিকা ইমরানের কাজ ছুইটে গেলো,রেশন টুকুই ভরসা।সাজাহান কিছুতেই কার্ড ওয়াপস করবে নি-মুই কার্ড দুই বছরকার চুক্তিতে কিনে লিছু,এডভাস দুই হাজার দিছু,এলায় কেবল সাত মাস হইছে,মোক ছয়শো টাকা রিটান দে মুই কার্ড ফিরৎ দিম।সাজাহান লাগভাগ একমাস টাল বাহানা করার পরে জানতে পারে এই ব্যাপারে গভমেন্ট খুব কড়া হইছে,বিপদ হইতে পারে-একদিন সাঁঝের বেলা সায়রাকে একা দেইখে কহে-সায়রা তুই মোক এট্টু খুশি কইরে দে, তোক মুই বচপন থিকা প্যার করি,কহবা পারিনি।সায়রা রুদ্র মুর্তি ধারণ কইরে ওক খেদায় দিসিলো।পরে আইনের ভয়ে কার্ডও ফেরৎ দিলো। -…-…- রেশনে যা চাল পায় তাতে দিনে আধা সেরের বেশি রান্না করা যাবে নি।এই বেলা এক পোয়া রাইন্ধে প্রথমে তিন ভাগ কইরে ছিলো।বাচ্চা দুইটা না পাচ্ছে দুধ,না ডিম,চুড়া মুড়ি কিনার পাইসা নাই,তাই ভাতই মুল খানা।সায়রা সব ভাত দুইজনকে ভাগ কইরে দেয়।পঞ্চায়েৎ থিকা আলু আর ডাল দিসিলো,অল্প ডাল আর দুইটা আলু ভাতেইসিদ্ধ দিসিলো।সায়রা ভাতের ফ্যান-এ এট্টু নিমক নিয়ে চুমুক দেয়,একটা আলু কামড় দিয়ে খায়।সায়রা অল্প অল্প কইরে ফ্যান-এ চুমুক দেয় আর মনে মনে কয়-হে আল্লা তুমি মেহেরবান,তুমি আমাদেরঅভুক্ত রাখোনাই,শায়েদ পরীক্ষা নিচ্ছো,আমাকে তোমার মতই তাহাম্মুল প্রদান করো।সায়রা আবার ফ্যান-এ চুমুক দেয়।পাশের বাড়ির সাদ্দাম ফোন আগায় দিয়ে বলে-ভাবি,ভাইজানের ফোন..।সায়রা ফোনে সব শুনে,এখন ও যেমন আছে,ডাক্তার কইছে-খুব তাড়াতাড়ি ছাইড়ে দিবে। ফোনে কথা বলতে বলতেই সায়রা স্বগতোক্তি করে-লা ইলাহা ইল্লাহা আল্লা হু আকবর,এই লাও বেটার সাথে বাত করো-কি করতেছো বেটা? -খাচ্ছি -কী খাচ্ছো -ভাত -আর কী -শুধু ভাত… ……কোনো শব্দ নেই।সায়রা ব্যস্ত হয়ে পড়ে-কিগো কি হোল্,কেন কথা নি কহেন? -এতা খসীর মাংস দেয়,মাছ দেয়,বার বার চা একবার ফল,সকালে ডিম… আইনুল আর মনিষা সবই হা কইরে শুনতে ছিলো।আইনুল বলে-মুই বাবার ঠিন যাম্।মনিষা বলে-মোরও করোনা হোক,ভালো হবে,ভালো ভালো খাবা পামু।সায়রা দুঃখ লুকায় বলে-আকথা কুকথা নি কহিস তোরা,করোনায় অনেক লোক মারাও গিসে।কিছু না বুইঝে আইনুল বলে-বাবাও মারা যাবেনাতো? সায়রা ঠাস করে ওর গালে চড় মারে ফোনের ওপার থেকে ইমরানও কাঁদে। (সমাপ্ত) 27