৩০/৮/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ

বয়স ৭২! এই বয়সে মানুষ সাধারণত অবসর জীবন যাপনেই অভ্যস্ত হয়ে থাকেন। কিন্তু দিল্লির গঙ্গরাম ঠিক যেন উল্টো। তার কাহিনি শুনলে শোকে ভারি হয়ে উঠবে হৃদয়। পাশাপাশি তাঁকে কুর্নিশ জানাতে হবে দ্বিধাহীন ভাবে। দিল্লির সিলমপুরের রাস্তায় গত ৩২ বছর ধরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন গঙ্গারাম। না, এই কাজের জন্যে তিনি কোনও বেতন পান না, বলা ভালো নেন না। এমনকী কামাই নেই একদিনও, করোনা-লকডাউন পরিস্থিতিতেও প্রতিদিন গঙ্গারাম গিয়ে দাঁড়িয়েছেন রাস্তায়। সামলাছেন দায়িত্ব। হ্যাঁ, এই বয়সেও…

কিন্তু বেতন ছাড়া কেন এমন করে চলেছেন গঙ্গারাম? জানা গিয়েছে, সিলমপুরেরই এক সিগন্যালের সামনে ঘটেছিল ভয়ংকর ঘটনা। এই সিলমপুরেরই রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল গঙ্গারামের একমাত্র পুত্র। মানসিক অবসাদে চলে যায় গোটা পরিবার। ছেলে চলে যাওয়ার শোক কোনওমতেই যাচ্ছিল না, কিছুদিন পর ছেলের দুঃখে গঙ্গারামের স্ত্রীও মারা যান। ভরা সংসার শূন্য হয়ে যায় গঙ্গারামের।

গঙ্গারাম জানিয়েছেন, একসময়ে তিনি ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করতেন। সকলের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে টিভি, ফ্রিজ, পাখা ঠিক করতেন। গঙ্গারামের সঙ্গে সেই কাজে যোগ দিয়েছিল তাঁর ছেলেও। কিন্তু হঠাতই একদিন ওলটপালট হয়ে যায় সব। পুলিশ এসে তাঁর ছেলের পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর দেয়। তারপর থেকেই গঙ্গারামের জীবনটা বদলে গেল। কিছুদিন পর ছেলের শোকে চিরবিদায় নিলেন তাঁর স্ত্রীও। নিঃসঙ্গ জীবন শুরু হল গঙ্গারামের। তখনই ঠিক করেন, যে পথ দুর্ঘটনা তাঁর জীবনটাকে তছনছ করে দিল, তার বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়াবেন তিনি। তারপর থেকে প্রতিদিন হাতে লাঠি নিয়ে, পুলিশের মতো করে ইউনিফর্ম পরে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ট্রাফিক কন্ট্রোল করা শুরু করেন গঙ্গারাম। সেই সিলমপুরের ট্রাফিক সিগন্যালেই।

আর এভাবেই কেটে গেল ৩২ বছর! ৭২ বছর বয়সেও ক্লান্তি নেই তাঁর। পথ দুর্ঘটনায় কারণে যাতে আর কোনও মায়ের কোল খালি না হয়, সেই চেষ্টাই করে যান তিনি। দিনের পর দিন কাজে সাহায্য করার পুরস্কার হিসেবে পুলিশের থেকে একটি মোবাইল ফোন উপহার পেয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের থেকে পেয়েছেন সংবর্ধনাও। কিন্তু তাতেও তাঁর কাজ থেমে নেই। শরীর যতদিন সাথ দেবে, ততদিন এভাবেই ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে কাজ করে যেতে চান তিনি।

11