বিচ্ছেদ সবার জন্যই কষ্টের। অনেকেই প্রিয়জনের বিচ্ছেদ মানতে পারেন না। প্রিয়জনের শোকে সারা জীবন কাতর থাকার উদাহরণও আছে। আবার শোকে বিশ্বের অনেকেই সৃষ্টি করেছেন ইতিহাস। এবার জানা গেল এমনই একজনের কথা। যে কিনা তার প্রিয়তমার বিয়োগ মানতে পারেনি। সেই শোকে গত ৩০ বছর কাটিয়েছেন বাঁশ গাছে।

হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। বাঁশঝাড়ে বিষধর গোখরো, কাঠবিড়ালি ও পাখিদের সঙ্গে মিলেমিশে বাস করেছেন শোকে কাতর এক স্বামী। তিনি ভারতের বর্ধমান শহরের অদূরে পালিতপুর গ্রামের রায়পাড়ার বাসিন্দা লকু রায়। স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। প্রায় ৩০ বছর আগে লকুর স্ত্রী সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। এরপর লকু ঘর সংসার ছেড়ে বাঁশ বাগানে আশ্রয় নেন।

দিনের আলোতে একরকম, রাতের অন্ধকারে এখানে তিনি থাকেন একমাত্র ছোট্ট একটি টর্চের আলোতে। লকু পেশায় দিনমজুর। কাজ থাকলে ভাল। আর কাজ না থাকলে তাঁর ছোট্ট একফালি জমিতে জলের নালা বানিয়ে মাছ ধরার কেরামতি করে রেখেছেন। নিজের ধরা সেই মৌরলা মাছের ঝাল-ঝোলেই তৃপ্তি পান নিঃসঙ্গ লকু।

লকুর এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। তাদের বড় করেছে লকুর মা। এই গ্রামেই তার বাড়ি। কখনো ইচ্ছে হলে সেখানে যান। এছাড়া বাকি সময় এখানেই কাটান তিনি।

লকুর ইচ্ছা জীবনের বাকি ক‌টা দিন এই বাঁশঝাড়ের ওপরই কাটিয়ে দেবেন। বাঁশ বাগানে তিনি থাকছেন টানা ৩০ বছর ধরে। সিমেন্টের বস্তা ও পলিথিনের টুকরো দিয়ে বাঁশঝাড়ের ওপরে মাচা করে একটি ছোট্ট ঘর বানিয়ে নিয়েছেন। দিনের আলোতে এক রকম, রাতের অন্ধকারে থাকেন একমাত্র ছোট্ট একটি টর্চের আলোতে।

11