২৮/৮/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ

প্রবীর মহাজন

অতিথি দেভভব-বাঙালীদের কাছে অন্যতম স্বভাব বৈশিষ্ট্য; এই আগষ্টের প্রথম সপ্তাহে কলকাতার অদূরে হাওড়ার বালির ঘোষপাড়ার বাগপুকুরে আসা সুদূর উত্তর আমেরিকার উড ডাক (wood duck) পাখির বাহারি রূপে বিস্মিত হয়েছিল এক যুবক ।তারপর থেকে লোক মুখে এই হাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।সেই থেকে স্থানীয় দের মধ্যে ও উৎসাহের অন্ত নেই।

হাঁসটি প্রায় সারাদিন পুকুর ঘাটের কাছাকাছি ঘোরাঘুরি করে। কখনো সখনো এদিকে ওদিকে উড়ে চলে গিয়ে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার চলে আসে। পুকুর পাড়ে আম জাম গাছের মতো যে গাছ গাছালি রয়েছে তাতেই সে রাত কাটায় । আর দিনের বেলায় ঝুপ করে জলে নেমে পড়ে কখনো কখনো উড়ে গাছে উঠে পড়ে । এ পুকুর, ও পুকুর ঘুরে ঘুরে সে খাবার খেয়ে সময় কাটায়।
স্থানীয় মানুষ জন তার নিত্যদিনের এই সময় সারণী দেখে দেখে যথেষ্ট ভাবিত । উড ডাকটির একা একা থাকতে যাতে কোনো অসুবিধা না হয় তার নানান ব্যবস্থা করতে সচেষ্ট। পাশাপাশি লোকজনের মতে পাখিটি তার সঙ্গীর অভাবে উড়ে উড়ে দূরের পুকুর গুলোতে চলে যায়। তাই স্থানীয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ কোলকাতা পুলিশের সহযোগিতায় ঔ হাঁসটির সঙ্গ দেওয়ার জন্য এখন বেশ কিছু দিশি হাঁসের ব্যবস্থা করেছেন ।

জানা যাচ্ছে প্রথম প্রথম বেশ কয়েক দিন হাঁসটিকে দেখে স্থানীয়দের কেউ কেউ বনদপ্তর কে খবর দিলে বনদপ্তরের লোক এসে হাঁসটি বিভিন্ন ভাবে পর্যবেক্ষন করে বলেন যেহেতু উড ডাকটি সুস্থ রয়েছে তাই তাকে কোনো ভাবেই বিরক্ত করা হবে না। পাখিটি তার ইচ্ছে মতোই এখানে থাকবে।

বেশ কিছু দিন ধরে ডাকটি পুকুরে একা নিশ্চিন্তে নিজের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। বহু স্থানীয় মানুষ পুকুরে স্নানকরেন ,
এখনতো রীতিমত তাদের অতি পরিচিত এক প্রতিবেশী এই উড ডাক। যাকে আবার ক্যারোলিনা ডাকও বলা হয়।

খবর পেয়ে বিভিন্ন পক্ষীবিশারদগন দেখতে আসছেন। হাওড়া জেলার বাইরে থেকেও বহু পক্ষপ্রেমিও ও ফটোগ্রাফাররাও পাখিটিকে দেখতে ও ক্যামেরা বন্দি করার জন্য ভীড় জমাচ্ছেন।

লকডাউনের ফাঁকে করোনা আবহের মধ্যে আসা মানুষেরা স্বাস্থ্য বিধিও মাঝে মধ্যে ভুলে যাচ্ছেন।পরক্ষনে যদিও তারা নিজেরাই সচেতন হয়ে আবার ছবি তুলতে লেগে পড়ছেন।

অপূর্ব সৌন্দর্য্যের এই বাহারি হাঁস সাধারণত উত্তর আমেরিকাতেই দেখতে পাওয়া যায় বলে মত পক্ষী বিশারদদের একাংশের। কিন্তু প্রশ্ন হলো তা হলে এই শ্রাবন মাসে কি ভাবে এলো একা এই পুরুষ ক্যারোলিনা ডাকটি ? সাধারণত এরা দলবেঁধে থাকে ।তাছাড়া এই সময়ে এ অঞ্চলে পরিযায়ী পাখিদের আসার সময়ও নয় । পক্ষীবিদদের মতে সম্ভবত কেউ বেআইনি ভাবে বাড়িতে পোষার জন্য খুব ছোট্ট থেকে এই পাখিটিকে রেখেছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সে বাড়তে থাকলে ডাকটির দেহের আকৃতগত বিভিন্ন পরিবর্তন দেখে আইনগত জটিলতার ভয়ে ছেড়ে দিয়ে থাকতে পারে। আবার হাঁসটি নিজেও সেখান থেকে তার স্বভাবজাত কারনে উড়ে পালিয়ে আসতে পারে।

উড ডাকটি যেভাবেই আসুক না কেন পৃথিবী জুড়ে করোনা আবহের যে অস্বস্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে সেই প্রেক্ষাপটে হাওড়ার পুকুরে আসা পুরুষ ক্যারোলিনা ডাকটি শুধুই হাওড়ার নয় সমগ্র পক্ষীবিশারদ ,পক্ষীপ্রেমী, ফোটোগ্রাফার এমন কি আপামর পশ্চিমবঙ্গবাসীদের যে এক অনাবিল আনন্দ লাভের সুযোগ করে দিয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।আপনিও যদি পক্ষীপ্রেমী ফোটোগ্রাফার হন তাহলে হাওড়ার পুকুরে আপনিও এক অদ্ভুত অনুভূতি লাভে সক্ষম হবেনই হবেন।

18