নিজস্ব প্রতিবেদন, আগস্ট ২৭,২০২০: সোনারপুর রাজপুর পৌর এলাকায় থাকেন?রোগী করোনা পজিটিভ?হাসপাতালে নিতে চাইছে না অ্যাম্বুলেন্স? আর কোভিড অ্যাম্বুলেন্সের নাগাল পাওয়া তো মেলা ভার। ফোন করুন 7044664552 নাম্বারে। পিপিই পরে সব প্রটেকশনসহ টোটো নিয়ে আপনার ঠিকানায় পৌছে যাবেন যে সদালাপী হাসিখুশি ২৭  বছরের যুবক তাঁর মুখের হাসি আপনি দেখতে পাবেন না। কেননা মাস্কে ঢাকা তাঁর মুখ। কিন্তু তাঁর খুশির ঝলক ফুটে উঠবে তার আয়তচোখের উদ্ভাসে।

এমনই এক কোভিড যোদ্ধা সৌরভ ঘোষ। শুরুটা হয়েছিল লকডাউন এর সময় থেকে। এলাকায় অসুস্থ ডায়ালিসিস রোগী, গর্ভবতী মা বোনদের হসপিটালে পৌঁছানোর গাড়ি নেই। সম্বল একটিমাত্র টোটো এবং তা নিয়েই নিয়ম করে সপ্তাহে দু’বার করে ডায়ালিসিস করিয়ে আনা এবং গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসা এবং ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া শুরু করেছিলেন তিনি।

পরবর্তীতে করোনা ছড়ায় তার এলাকা গরখাড়া-লাঙলপাড়া এলাকায়। ১০ থেকে ১৫ জন কোভিড পজিটিভ পাওয়া যায় তার পাড়া ও সংলগ্ন এলাকায়। আর ছড়ায় আতঙ্ক। করোণা পজিটিভ রোগী নিয়ে হসপিটাল যেতে নারাজ অ্যাম্বুলেন্স। এমনকি করোনা টেস্ট করতে চাইলেও যাবে না কোন গাড়ি। করোনা নিয়ে সব সংশয় কাটিয়ে ওঠেন সৌরভ। তারপর থেকেই শুরু তার ফ্রি সার্ভিস। শুধুমাত্র কোভিড পজিটিভ পেশেন্ট এর জন্যই নয়। যে কোনো রোগী বিপদে পড়ে গাড়ি না পেলে পাশে আছেন তিনি।

শুধু কি তাই তারই উদ্যোগে তাঁর পাড়ার ক্লাব মিলনসঙ্ঘ এখন প্রতি মাসে দুবার করে এলাকা স্যানিটাইজ করছে। তিনি মেশিন জোগাড় করেছেন এবং স্যানিটাইজার এর জন্য সাহায্য পেয়েছেন বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের স্থানীয় শাখা থেকে। তাই দিয়ে দল-মত-নির্বিশেষে পাড়ার সকল যুবককে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ওই ছাত্র সংগঠনেরই সদস্য সৌরভ।

সোনারপুর রাজপুর পুরবোর্ড ভেঙ্গে যাওয়ায় মানুষ বুঝতে পারছেন না বিপদের মুখে কার কাছে যাবেন। অভিযোগ,স্থানীয় কাউন্সিলরকে গুরুত্ব দিচ্ছে না প্রশাসন। এমনই দিশাহারা পরিস্থিতিতে পাড়ার সব যুবক মিলে কাজ করছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। 

লকডাউন এর সময় ত্রাণ শিবিরে অংশগ্রহণ করেছেন বিভিন্ন সংস্থার তরফে। তখনই সৌরভ বোঝেন মানুষের অসহায়তার কথা। তার থেকেই তিনি চালু করেন তার ফ্রী টোটো সার্ভিস সব ধরনের রোগীদের জন্য।

কুলিক ইনফোলাইনের  এই প্রতিবেদককে তিনি জানালেন, সোনারপুর রাজপুর  পৌর এলাকার যে কোন জায়গা থেকেই বিপদে পড়ে যে কোনো ধরনের রোগী তাকে ডাকলে তিনি হাজির হবেন তাঁর টোটো নিয়ে। সার্ভিস ফ্রী। তবে দু একটি ক্ষেত্রে রোগীর পরিজন জোর করে হাতে টাকা গুঁজে দিলে সে টাকা তুলে দেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও তার নিজের ছাত্রসংগঠনের ত্রাণ তহবিলে।

26