প্রশান্ত ভূষণ মামলার শুনানি হবে সাংবিধানিক বেঞ্চে। বিচারপতি অরুন শহরের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে এতদিন এই মামলার শুনানি চলছিল। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি অরুন শৌরি এই মামলাটি সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিচারপতি অরুন শৌরি বলেন যে তিনি সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখে অবসর গ্রহণ করবেন। তাই তাঁর পক্ষে এই মামলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে না। বিচারপতি শুরু আরও জানান যে প্রধান বিচারপতির নির্দেশেই এই মামলাটি এখন থেকে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চই শুনবেন।

উল্লেখ্য, সুপ্রিমকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে ‘তেহলকা’ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর একটি সাক্ষাৎকারে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সম্পর্কে করা একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার মামলা চলছে। এই সাক্ষাতকারে প্রশান্ত ভূষণ বলেছিলেন যে,বিগত বছর গুলিতে সুপ্রিম কোর্টের ১৬জন প্রধান বিচারপতির মধ্যে অর্ধেকই ভ্রষ্টাচারের সাথে যুক্ত ছিলেন। এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এবং  তাঁর শাস্তিও ঘোষণা করা হতে পারে। শাস্তি ঘোষণার পূর্বে তাঁকে কোর্টের কাছে ক্ষা চাইতে বলা হয়েছে। তবে প্রশান্ত ভূষণ ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেছেন। আজ সুপ্রিম কোর্টের কাছে তাঁর আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছেন যে,ক্ষমা চাওয়ার জন্য প্রশান্ত ভূষণের ওপর যেন কোন রকম চাপ সৃষ্টি করা না হয়। তিনি বলেছেন যে, সর্বোচ্চ আদালতে ন্যায়ের এবং মত প্রকাশের জন্য যথেষ্ট বড় জায়গা রয়েছে।এক্ষেত্রে সমালোচনাকে গ্রহন করা উচিত। আপনাদের কাঁধ যথেষ্ট চওড়া।ধাওয়ান কোর্টকে জানিয়েছেন যে, প্রশান্ত ভূষণ এই আদালতেই দীর্ঘ দিন আইন রক্ষার কাজ করেছেন। তিনি কখনোই সর্বোচ্চ আদালতের অবমাননা করেননি।

এদিকে প্রশান্ত ভূষণ তাঁর বিরুদ্ধে আনা আদালত সম্পর্কে অবমাননাকর ট্যুইটের জন্য চলা মামলা প্রসঙ্গেও
বলেছেন যে, তিনি যা বলেছেন তা কখনোই সর্বোচ্চ আদালত বা প্রধান বিচারপতির অবমাননা নয়। বরং দেশের আইন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্যই বলেছেন। এবং সেইসাথে সেই মামলাতেও ক্ষমা চাইতে অস্বিকার করেছেন। ভূষণ বলেছেন, “যদি আমি আমার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাই তাহলে তা আমার অন্তরাত্মা ও সর্বোচ্চ আদালতের অবমাননা করা হবে যাকে তিনি সর্বোচ্চ স্থানে রাখেন। “

উল্লেখ্য, প্রশান্ত ভূষণের বিরুদ্ধে আনা আদালত অবমাননার মামলাটির শুনানি সাংবিধানিক বেঞ্চে করার আবেদন করে প্রশান্ত ভূষণের উকিল রাজীব ধাওয়ানও সর্বোচ্চ আদালতের কাছে কর ছিলেন। তিনি কোর্টের কাছে আবেদন করেছিলেন যে, এই মামলার শুনানি সাংবিধানিক বেঞ্চেই হওয়া উচিত এবং এজন্য এটর্নি জেনারেলের মতামতও শোনা উচিত। কারণ এই বিষয়ের একটি সম্পূর্ণ সমাধান হওয়া উচিত। কারন এখানে অনেক গুলি সাংবিধানিক প্রশ্নেরও উত্তর পাওয়ার আছে। বিচারপতি অরুন শৌরি, বিচারপতি বি আর গৌয়াই ও বিচারপতি কৃষ্ণ মুরারীর তৈরি করা প্রশ্নের তালিকায় যে প্রশ্ন গুলো আছে তার ব্যপক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিচারপতিরা প্রশ্ন করেছেন যে, ১) আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে কি ভ্রষ্টাচারের অভিযোগ করে সর্বসাধারণের সামনে কি কোন মন্তব্য করা যাবে? যদি যায় তাহলে তা কোন পরিস্থিতিতে করা যাবে?
২) কর্মরত বিচারপতিদের বিরুদ্ধে কোন ভ্রষ্টাচারের অভিযোগ করতে হলে তার প্রক্রিয়া গুলো কি হবে?

এই প্রশ্নগুলির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে ভারতের বিচারব্যবস্থায় ব্যপক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

5