২৪/৮/২০২০,ওয়েবডেস্কঃবাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-সহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলো।ইতি মধ্যেই সেই হত্যা কান্ডে জড়িত কয়েকজন প্রাক্তন সেনা আধিকারিকের বিচারে ইতিমধ্যেই ফাঁসির সাজা কার্যকর হয়েছে। এবার দেশের সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সংযোগের বিষয়টি সামনে এনে তদন্তের দাবি তুললেন মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ। বৃহস্পতিবার এক ভারচুয়াল আলোচনায় যোগ দিয়ে লিফশুলজ বলেন, ”বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের বিষয়টি কেবল বাংলাদেশের বিষয় নয়, এটা আমেরিকারও বিষয়।”সেটিং দ্য ক্লক ব্যাক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় লিফশুলজের অভিযোগ, ”যারা হত্যাকাণ্ডের পিছনে ছিল, তারা জিয়াউর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এগোয়নি। আর জিয়াউর রহমানের পিছনে ছিল আমেরিকা। এই সংযোগে তদন্তের প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশ ও আমেরিকা দুই দেশের জনগণ মিলেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।”

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানের পর জিয়ার আমলে সামরিক আদালতে কর্নেল তাহেরের বিচারের অনুসন্ধান করেছিলেন এই সাংবাদিক। তখন তাঁকে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তা নিয়ে লিফশুলজ বলেন, ”এখন আমরা জানি, সেনা উত্থানের এক সপ্তাহ আগে জিয়াউর রহমান মার্কিন দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আমরা এও জানি, CIA’র স্টেশন চিফ ফিলিপ চেরির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত আলোচনা হয়েছিল ঢাকায়। মার্কিন দূতাবাসে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল যে কী হতে চলেছে। রাষ্ট্রদূত ডেভিস বস্টার খুবই বিষণ্ণ ও বিরক্ত ছিলেন। কারণ, অন্য দূতাবাস আধিকারিকরা এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না।”

মুজিবর রহমানকে হত্যার ছ’ মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা হয়েছিল, এই দাবি করে লিফশুলজের দাবি, ”পরিকল্পনা চূড়ান্তের এক সপ্তাহ আগে জিয়া ও চেরির সঙ্গে ঢাকায় এক ব্যবসায়ীর বাসায় সভা হয়, কীভাবে এটা সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে। জিয়া ছিলেন সুচারু পরিকল্পনার কেন্দ্রে। পরবর্তী সময়ে তাঁর উত্থান থেকে আমরা বুঝতে পারি, সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে জিয়া অন্য সৈন্যদের ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে যাওয়া ঠেকিয়েছিলেন। মাসের পর মাস পরিকল্পনায় তিনি জড়িত ছিলেন। তাঁর দায়িত্ব ছিল সেনাবাহিনীর কেউ যাতে এই কু’র বিরুদ্ধে অবস্থান না নেয়।” 

31