লকডাউনের দুঃসহ স্মৃতি এখনও মলিন হয় নি। হাজার হাজার কিমি রাস্তা পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে অথবা ট্রাকে গাদাগাদি করে বাড়ি ফেরার সময় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যতই কষ্ট হোক আর ফিরে আসবেন না। কিন্তু বোধহয় একশো টা দিনও পার হয় নি। পেটের টানে কাজের খিআবার ভিন রাজ্যে পারি জমাচ্ছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার কর্মহীন পরিযায়ী শ্রমিকেরা। বিভিন্ন রাজ্য থেকে কল কারখানার মালিকেরা গাড়ি পাঠাচ্ছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ সহ বিভিন্ন জায়গায়। সেই বাসে করে আবার একরকম বাধ্য হয়ে আবার কাজের সন্ধানে ছুটছে জেলার বেকার অসংঠিত শ্রমিকেরা।

শ্রমিকদের বক্তব্য তিনমাসের বেশি ঘরে বসে আছি কিন্তু রাজ্য সরকার থেকে বিশেষ কিছুই সাহায্য পান নি তারা। পাঁচ দশ কেজি চাল দিয়ে সংসার চলে না। তারা কাজ চান কিন্তু এ রাজ্যে কাজের কোনো সুযোগ নেই। পঞ্চায়েত থেকে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে ঘরে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম নথিভুক্ত করা হলেও কেউ পাঁচদিন তো কেউ তিন দিনের বেশি কাজ পায় নি। মুখ্যমন্ত্রী পরিযায়ীদের জন্য ‘স্নেহের পরশ’ প্রকল্প ঘোষণা করলেও বাস্তবে বেশিরভাগ শ্রমিক ই এমন কোনো প্রকল্পে নথি ভুক্ত হতেই পারে নি। জেলা প্রশাসনের কাছেও আজ পর্যন্ত তেমন কোনো তথ্য নেই যা থেকে জানা যায় কতোজন শ্রমিক ভিন রাজ্যে কাজে যায়, কতজন ফিরেছে বা কতজন আবার ভিন রাজ্যে ফিরে গেছে বা যাচ্ছে। মূখ্যমন্ত্রী ভিন রাজ্যে যাওয়ার কথা বললেও এ রাজ্যে কাজের কোনো সুযোগই নেয়।

রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মানস ঘোষ কে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি একরকম স্বীকার করেন যে এখানে সত্যিই কাজের কোনো সুযোগ না থাকায় শুধু মাত্র দিন প্রতি ২০০ টাকা মজুরি ভরসায় কাউকে আটকে রাখা যায় না। তিনি বলেছেন যে আমাদের পঞ্চায়েতি ব্যবস্থার মধ্যে মাসে চার পাঁচ দিনের বেশি কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই। এই পরিস্থিতিতে কাউক আটকে রাখা যাচ্ছে না। তবু তারা চেষ্টা করছেন শ্রমিকদের এখনই ভিন রাজ্যে না যাওয়ার জন্য তারা বোঝাতে পারেন কিন্তু কাউকে জোর করে আটকানো যায় না।

26