দীর্ঘ আট সপ্তাহ পর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে জেল থেকে ছাড়া পেলেন আরামবাগ টিভির সম্পাদক সফিকুল ইসলাম। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ সেদিনই বিকেল চারটের মধ্যে সফিকুলকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন । সে নির্দেশ পেয়েই সফিকুলকে জেল থেকে ছাড়তে বাধ্য হল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।

প্রসঙ্গত এক সপ্তাহ আগে আগেই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ থেকে শফিকুল ইসলামকে মুক্তি দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট ।কিন্তু মুক্তির আগেই ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল আরামবাগ টিভির সম্পাদক শফিকুল ইসলামকে ।সুমন্ত যস নামে এক সরকারি চাকুরিবীর আনা মিথ্যে খবর পরিবেশনের একটি পুরনো কেসে অভিযোগের ভিত্তিতে শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছিলো আরামবাগ মহিলা থানা। যদিও সেই মামলায় শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা যাবেনা বলে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক আগেই রায় দিয়ে ছিলেন। তবে এই মামলায় সহযোগিতা করার জন্য শফিকুলকে নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে নিয়েই সেই মামলায় সহযোগিতা করেছিলেন শফিকুল ইসলাম । নিয়মিত থানায় গিয়ে পুলিশের যাবতীয় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছিলেন তিনি । কিন্তু তবুও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করেই আরামবাগ থানার পুলিশ গত 29 শে জুলাই ভোররাতে বাড়ির দরজা জানালা ভেঙে গ্রেপ্তার করে শফিকুল ইসলামকে। শফিকুলের সাথে সাথেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তার স্ত্রী আলিমা খাতুন এবং আরামবাগ টিভির একজন সাংবাদিক সুরজ আলি খানকে।এদের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশনের নামে তোলাবাজির অভিযোগ এনেছিল আরামবাগ থানার পুলিশ। যদিও আরামবাগ টিভির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে শফিকুল ও সুরুজ আলীর ওপর দীর্ঘদিন থেকেই রাগ ছিল আরামবাগ পুলিশের। কারণ লকডাউনের সময় ভুয়ো ক্লাবের নামে চেকে টাকা বিলির ছবি দেখিয়ে খবর পরিবেশন করেছিল আরামবাগ টিভি। আরামবাগ থানার পুলিশের দুর্নীতি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন মানুষ। আর তারপর থেকেই আরামবাগ টিভির কর্ণধার শফিকুল ইসলাম এবং অন্যান্য সাংবাদিকদের উপর রাগে ফুঁসছিলো পুলিশ।

অবশেষে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সফিকুলকে মুক্তি দিতে দিতে বাধ্য হল পুলিশ। জামিন পেয়ে খুশি চেপে রাখেননি শফিকুল।ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার সহযোদ্ধাদের। এই বিপদের দিনে যারা সব সময় তার পাশে থেকেছেন।বলেছেন ,”আমি আনন্দিত। তবে সেদিন আরো বেশি আনন্দ পাবো যেদিন মুক্তকণ্ঠে সত্যকথা সকলের সামনে বলতে পারব। “

141