২৩/৮/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ

একের পর এক ধাক্কা !

প্রথমে ধুপগুড়ির লক্ষ্মীকান্ত রায়, তারপর মমতা রায়, এবার আবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুরের বিধায়ক রফিকুল ইসলাম। সেই এক স্ট্রাটেজি ….

প্রথমে আননোন নম্বর থেকে একদিন হঠাৎ ফোন। তারপর ‘আই প্যাক’ সংস্থার নাম করে একদিন দেখা করবার আর্জি। সোজাসাপ্টা রাজনীতির মানুষজন, স্বভাবতই কারুর সাথে কথা বলতে আপত্তি থাকার কথাও নয়, তাই আসতে বলা। ফলে দেখাসাক্ষাত। কিন্তু কারণ কি ? না, তিনটি ক্ষেত্রেই আবদার সেই একইরকম। ” জানেন ই তো, তৃণমূল দলে তো আর একজনও সৎ ভরসাযোগ্য মানুষ নেই! কাজেই আপনাকে বড় প্রয়োজন। কি চাই বলুন ? টাকা,পদ, গাড়ি বাড়ি সব পাবেন আপনি । শুধু একটিবার কলকাতা গিয়ে আমাদের স্যার পি কে র সাথে দেখা করুন প্লিজ” !

হ্যাঁ, চমকে উঠবেন না। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে সম্পুর্ন অপরিচিত এইসব দৃশ্যের অবতারণা এর আগেও দু দুবার হয়েছে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার দুই প্রবীণ সিপিআইএম নেতৃত্বের সাথে। আর এবার সেই একই দৃশ্যের সাক্ষী থাকলো দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর বিধানসভা এলাকার বিধায়ক বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতৃত্ব রফিকুল ইসলাম।

আর শেষটুকুও বড্ড একঘেঁয়ে। মাত্র ৭% ভোট পাওয়া, দূরবীন দিয়ে খোঁজা, ‘সাইনবোর্ড’ সম একটা দলের ঘাম মাখা ম্যাড়মেড়ে চেহারার লোকগুলোর আর কিছু না থাক, স্পর্ধা আছে বিস্তর। তাই তাঁর পূর্বসূরিদের মতোই এবারো রফিকুল বাবুর দৃঢ় স্পষ্ট উত্তর,” দেখুন মশাই, হাট বাজারে গরু ছাগল ঘোড়া লক্ষ কোটি টাকায় বিক্রি হয় বা কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু বামপন্থা, কমিউনিজম বা বামপন্থীদের কিনতে পাওয়া যায়না। আপনি ভুল পথে চলে এসেছেন,অতএব সসম্মানে আপনি স্থান পরিত্যাগ করুন “!!

আবার একবার প্রমান হলো, রাজনীতি মানেই ‘গুছিয়ে নেওয়ার’ জায়গা নয়, রাজনীতি মানে যেন তেন প্রকারেন মানুষকে বিভ্রান্ত করে ভোট আদায়ও নয়। বরং রাজনীতি হলো জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত মাথা উঁচু করে মানুষের মাঝে থেকে মানুষের কথা বলার সৎসাহস। আর সেই সততাটুকু লক্ষ লক্ষ টাকার বিজ্ঞাপন দিয়ে বা কর্পোরেট সংস্থাকে বরাত দিয়ে নয় বরং বুকের রক্ত দিয়ে খিদে সহ্য করা ৭% দলটার মানুষগুলোর ই আছে। কারণ তাঁদের আর কিছু না থাক,সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের মতো বিশাল এক নিশ্চিত আশ্রয় রয়েছে যে !

43