২৩/৮/২০২০,ওয়েবডেস্কঃআন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিম করাচিতেই আছেন স্বীকারোক্তি দিয়ে শনিবারই সন্ত্রাসবাদীদের তালিকায় দাউদ ইব্রাহিমের নাম, করাচির ঠিকানা, পাসপোর্ট প্রকাশ করেছিল পাকিস্তান। সেই তথ্য প্রদানের মাধ্যমেই পাকিস্তান স্বীকার করে নেয় তারা দাউদকে তাদের দেশে আশ্রয় দিয়েছে। এই ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টাও কাটতে পারল না। পুরো ডিগবাজি দিয়ে ঘুরে গেল ইমরান খানের দেশ। তারা মুখ মুছে জানিয়ে দিল, দাউদের উপস্থিতির কথা কখনও তারা স্বীকার করেনি।

১৯৯৩-এর মুম্বাই বিস্ফোরণে দাউদ ইব্রাহিমকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে মনে করে ভারত। ২০০৩ সালে তাকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী ঘোষণা করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। মুম্বাইয়ের ডাংরিতে জন্ম নেওয়া দাউদ দীর্ঘদিন থেকে করাচিতে বসবাস করছেন বলে দাবি করে আসছে ভারত। তবে পাকিস্তান তা অস্বীকার করে আসছিলো। এই মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসবাদী করাচিতে বহাল তবিয়তে রয়েছে বলে দীর্ঘদিন থেকে দাবি করে আসছে নয়াদিল্লি। শুধু তাই নয়, পাক গুপ্তচর সংস্থা ISI তাকে সুরক্ষাবলয় দিচ্ছে বলেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নথি-প্রমাণ পেশ করে ভারত জানিয়ে আসছে। আর সেই কারণে দাউদকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য অতীতে একাধিকবার পাকিস্তানের কাছে আর্জি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের আর্জিতে সাড়া দেওয়া দূর অস্ত, ইসলামাবাদ কখনও এটা স্বীকার করেনি দাউদ ইব্রাহিম সপরিবারে সেখানে রয়েছে।

তবে শনিবার আন্তর্জাতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় ইমরান খান সরকার। FATF-এর কালো তালিকা এড়াতে বাধ্য হয়ে এ কথা স্বীকার করে তারা। আর্থিক তছরুপ, সন্ত্রাসবাদীদের আর্থিক মদতের মতো ঘটনা আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় বড় বিপদ হয়ে দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৯৮৯ সালে বিভিন্ন দেশের সরকার ঐক্যবদ্ধ হয়ে FATF গঠন করে। সন্ত্রাসবাদীদের আর্থিক মদত বন্ধে পদক্ষেপ না করার জন্য গত বছরের জুনে পাকিস্তানকে ‘ধূসর তালিকা’ (গ্রে লিস্ট) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এবার তাদের কালো তালিকাভুক্ত করার জোরাল দাবি উঠেছে। আর তা হলে অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বে কোণঠাসা হয়ে পড়বে ইমরান খানের দেশ। যা ঠেকাতে মরিয়া পাকিস্তান।

সন্ত্রাসবাদ ও কালো টাকা সাদা করা রুখতে কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে ইমরান সরকার, সেটি মাপবে এফএটিএফ। এর আগে ২৭টি পয়েন্টের অ্যাকশন প্ল্যান পাকিস্তানকে দিয়েছে এফএটিএফ। কিন্তু তারা মাত্র ১৪টি শর্ত পূর্ণ করেছে। এর জেরে তিরষ্কৃত হয়েছে পাকিস্তান। তবুও হুঁশ ফেরেনি। অবশেষে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে বুঝতে পেরেই এল এই নির্দেশ।

প্রথম নির্দেশিকায় ৮৮টি সন্ত্রাসবাদী ও সন্ত্রাসে মদত দেওয়া সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে আছে লস্কর ও জইশ জঙ্গিদের কথাও। এরই সঙ্গে আছে দাউদ ইব্রাহিমের উল্লেখ। ১৯৯৩ মুম্বই বিস্ফোরণের প্রধান কারিগর দাউদ ইব্রাহিমের করাচির তিনটি ঠিকানার কথাই দেওয়া আছে। এই ঠিকানাগুলি নিরাপত্তা পরিষদের দেওয়া। সেইগুলি লেখা হয়েছে পাকিস্তানের সরকারি নথিতে। এতদিন অবধি পাকিস্তান চিরকালই অস্বীকার করে এসেছে যে দাউদ করাচিতে থাকে।

দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিতে তালিবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে এমন নেতাও আছে যারা এখন আমেরিকার সঙ্গে শান্তিচুক্তি আলোচনায় যুক্ত।

এই নির্দেশিকা অনুযায়ী এই সব সংগঠনের সমস্ত সম্পত্তি ফ্রিজ করে দিতে হবে, উল্লেখিত ব্যক্তিরা কোথাও যেতে পারবে না ও কোনও রকমের অস্ত্রশস্ত্র তাদের হাতে আসতে দেওয়া যাবে না। রাষ্ট্রসংঘের দেওয়া গাইডলাইনস অনুযায়ী এই নির্দেশিকা তৈরী করা হয়েছে।

যদিও রবিবারই সেই অবস্থান থেকে একেবারে ঘুরে গিয়ে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী একটি বিবৃতি পেশ করেন। তাতে বলা হয়, দাউদ তাদের দেশে রয়েছে এমন কথা তারা কখনওই স্বীকার করে নেয়নি।

25