Categories
করোনা

কোভিড আক্রান্ত রোগীদের প্রতি চরম অমানবিকতা ও উদাসীনতার চিত্র রাজ্যজুড়ে

২২/৮/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ

একেই তো চরম আতংক আর সামাজিক ট্যাবু নিয়ে নাজেহাল যেকোনো করোনা আক্রান্ত মানুষ বা তাঁর পরিবার। তারই সাথে যদি যোগ হয় প্রশাসনিক ঔদাসীন্য আর অমানবিকতার করুণ ছবি তবে পরিস্থিতি কি হয় তা সহজেই অনুমেয়। হ্যাঁ, এক কোভিড আক্রান্তের প্রতি এমনই এক চরম অমানবিকতার চিত্র উঠে এলো পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানা এলাকা থেকে। প্রায় ১৫ ঘন্টা একজনকে আটকে রাখা হল পোলট্রি ফার্মে। আর প্রায় ১৮ ঘণ্টা পরে সেই করোনা রোগীকে নিতে এলাকায় এলো স্বাস্থ্যকর্মী ও অ্যাম্বুল্যান্স। আক্রান্ত যুবকের পরিবারের দাবি পরিযায়ী এই শ্রমিক একদিন আগেই বাড়ি ফিরেছেন। বাড়ি ফেরার পর তাঁর করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসে। তারপরে তাঁকে কাছেই এক পোলট্রি ফার্মে রেখে স্বাস্থ্য দপ্তরে খবর দিলেও ১৮ ঘন্টা কেটে গেলেও দেখা মেলে না স্বাস্থ্যকর্মীদের। পরে ফের স্বাস্থ্য দপ্তরে জানালে ও গাফিলতির অভিযোগ করলে অবশেষে যুবককে স্বাস্থ্যকর্মীরা এসে নিয়ে যায় হাসপাতালে। একেই অসুস্থ তারপরে ওরকম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অতটা সময় বন্ধ থাকলে একজন রোগীর শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি ঠিক কি হতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়। আর মানুষের মধ্যে কতটা আতংক বা রোগ সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গির অভাব থাকলে এরকম অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিতে একজন রোগী কে আটকে রাখা হয়, সেটাও ভেবে দেখার বিষয় !

অন্যদিকে, উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের কোভিড হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন এক রোগীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও বিতর্ক বাড়ছে। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মাঝ রাত থেকে হাসপাতাল থেকে ওই রোগী নিখোঁজ। আক্রান্তের বাড়ি জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের ফতেপুর এলাকায়। সেদিন রাতে তিনটে নাগাদ হাসপাতালের নার্সিং সুপার ওয়ার্ডে গিয়ে রুগীকে খুঁজে না পেয়ে সকলকে খবর দেন। পরবর্তীতে শুক্রবার প্রশাসনের তরফ থেকেও রোগীর বাড়ি ও আশেপাশে অনেক খুঁজেও তাঁর সন্ধান পাননি। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের সূত্রে ঘটনাটির জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবুও প্রশ্ন এসেই যায় যে, কিভাবে রাতের বেলা অতো নিরাপত্তারক্ষী, স্টাফ ও সিভিটিভি কভারেজ থাকা সত্ত্বেও একজন রোগী বেরিয়ে যেতে পারেন ! তাহলে যে সরকারি ঔদাসীন্যের অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা তা সঠিক ?

পরপর রাজ্যে এই দুটি ঘটনায় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

48

Leave a Reply