ওয়েব ডেস্ক আগস্ট ২০,২০২০: স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার ভাষণ মঞ্চ থেকেই খুব শিগগিরই করোনা যুদ্ধজয়ে ভ্যাকসিন আসার কথা ঘোষণা করেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। এবার জানা গেলো, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে ভ্যাকসিন তৈরির জন্য চেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখতে নারাজ ভারত। জানা যাচ্ছে ICMR এবং ভারত বায়োটেকের যৌথ গবেষণার ফসল কোভ্যাক্সিন এবং জাইডাস ক্যাডিলার তৈরি জাইকভ-ডি দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল উত্তীর্ণ হওয়ার পথে। ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের মধ্যে এই সাফল্য দ্রুত ‘নিরাপদ ও কার্যকরী’ ভ্যাকসিনের জন্য দেশবাসীর প্রত্যাশা আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই দুই স্বদেশি ভ্যাকসিনের জরুরি অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চাও শুরু হয়েছে দেশজুড়ে।

প্রসঙ্গত দেশে ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এর মধ্যেই এক জরুরি সভায় বসেন তাঁরা। সেই সময় কমিটির সদস্যদের এক প্রশ্নের জবাবে বলরাম ভার্গভ জানিয়েছেন, ভারতীয় দু’টি কোভিড ভ্যাক্সিনের দ্বিতীয় দফার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ হওয়ার পথে। তাঁর জবাবের রেশ ধরে সাংসদরা জানতে চান, কত দিনের মধ্যে ভারতের হাতে কোভিডের ভ্যাকসিন আসবে? এর উত্তরে ICMR-এর প্রধান জানিয়েছেন, চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য সাধারণত ৬ মাস থেকে ৯ মাস সময় লাগে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে জরুরি ভিত্তিতে এই সমস্ত ভ্যাক্সিনের অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। বৈঠকে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংসদকে উদ্ধৃত করে এমনই জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই।
এ বিষয়ে জানানো হচ্ছে, দেশে একদিনে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ফের ৬৪ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। বুধবার সকালে প্রকাশিত মেডিক্যাল বুলেটিনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬৪,৫৩১ জনের শরীরে মিলেছে করোনাভাইরাস। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ২৭ লক্ষ ৬৭ হাজার ২৭৪ জন। এখনও চিকিত্‍‌সাধীন রয়েছেন ৬ লক্ষ ৭৬ হাজার ৫১৪ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২০ লক্ষ ৩৭ হাজার ৮৭১ জন। এখনও পর্যন্ত দেশে সুস্থতার হার ৭৩.৬৪%। মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫২ হাজার ৮৮৯। মৃতের হার ১.৯১ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে একমাত্র ভ্যাকসিন আসাটাকেই পরিত্রাণ হিসেবে দেখছেন আপামর ভারতবাসী।

22