আফতাব হোসেন

ডিয়ার 

RHTDM (রহনা হে তেরে দিল মে )

কেমন আছিস এখন,? তোকে দেখলাম,,তাই তোকে লিখছি,,

জীবনে প্রথমবার সাহস করে তোকে লিখছি,,,,পড়িস না প্লিজ,,পড়লে সেই না দেখা মজাটা থাকবে না,,

মেয়েদের শরীরে একটা গন্ধ থাকে বুঝলি?কোন পারফিউম এর জানি না,তবে একটা ভালো লাগা গন্ধ,মাতাল গন্ধ,একটা অহংকারী গন্ধ আবার একটা আগুনের গন্ধও ,,যা নিমেষে সব কিছু জ্বালিয়ে দেয়,আচ্ছা তোর মধ্যে আমি কোন গন্ধ পাইনি কেন রে?,,ঘেঁষে থাকতিস, তাও পাইনি,,বোকা তুই , আমি হুমায়ুন নই,, আমার মধ্যে কোন হিমু নেই,,আমি আবিষ্কার করতে পারতাম না ।

পিকনিকের দিনগুলো মনে আছে ,,,মনে আছে প্রথমবার গভীর জঙ্গলে একা হবার দিনগুলো,,মনে পড়ে তোর বন্ধুরা যখন তাদের পছন্দের কাউকে বেশি মাংস দিয়ে লজ্জায় নববধূর চাউনি নিয়ে আল্লাদি সোহাগ করতো,, কেন যে তখন তোর রান্নার তাড়া থাকতো বুঝিনি,,,তোদের চাওয়া পাওয়াটা বড্ড অদ্ভুত,,তোরা জানিস না ছেলেদের ওই বয়সটা খুব সংঘাতের,,মনের সঙ্গে শরীরের আবার মনের সঙ্গে বাস্তবেরও,কখনো আবার নিজের সঙ্গে স্বপ্নগুলোরও,, সব স্বপ্নের দিন সোনার খাঁচায় থাকে না পাগলী,,আমি কবিগুরু নই,

আমার মধ্যে  কোন অমিত রায় নেই,,আমি শেষের কবিতা লিখতে পারি না।

শ্রীময়ীর দিদির বিয়ের কথা মনে আছে ?? মনে আছে সারা বিয়েবাড়িতে তোকে একবারও বলিনি তোকে কেমন লাগছে,,তোকে দেখিইনি ভালো করে,,অপর্নাদের লাল ঠোঁট গুলো দেখে এতটাই বিভোর ছিলাম বুঝতেই পারিনি তুই কালো ঠোটেও রঙ মাখতে পারিস,কি যেন নাম ছিল মেয়েটার?পারুল মনে হয়,,মনে আছে ওকে দেখে তিনটে সিগারেট এক্সট্রা খেয়েছিলাম,,চোখগুলো দেখেছিলি ওর,ডিসেম্বরের শেষে প্রেম পাওয়া ঠান্ডায় হলুদ নীলের কম্বিনেশন, ওফ ওফ ওফ,,কি ভাবে চোখ ফেরান যায় বল,,ভাইটাল স্টাট সবে বুঝতে শুরু করেছিলাম,,তুই সাহায্য করতে পারতিস,,করিসনি,,আচ্ছা তুই একটা ঢাউস কম্বল মার্কা সোয়েটার পরে এসেছিলি কেন রে,,? একটু সাজতে পারতিস বল,,তখনও পুরুষ হয়নি রে,,নারীর উচ্ছলতায় পিছলে যেতাম বিচক্ষনতায় নয়, এটা তোর বোঝা উচিত ছিল,,পাতাঝরার মরসুমের আমি পুরু নই রে,,তুই টাপুর হতে পারতিস,,

ঝগড়াটা মনে আছে আমাদের,আমি ছিলাম “কহ না প্যার হে ” আর তুই  

“RHTDM”.। মনে আছে আমি বাবুল সুপ্রিয় আর তুই লাকি আলী,,মাথায় ফেট্টি বেঁধে ভাবতাম  আর স্বপ্ন দেখতাম কোন এক নির্জন দ্বীপে যদি ঐরকম পছন্দের কোন নায়িকাকে নিয়ে হারিয়ে গেছি,,তুই আবার RHTDM এর ম্যাডি হতে চাইতিস,,তোর বিশ্বাস ছিল তুই মন থেকে ভালো বাসলে নাকি সে ঠিক ফিরে আসবে,,এখন এসব মনে পড়লে খুব হাসি পায়,,কত ইনোসেন্ট ছিলাম বল,,কত স্বপ্ন ছিল,,কেউ বুঝতেই পারিনি আসল সিনেমার নাম “জিন্দেগী”,তবে হ্যাঁ আজ এটা কনফেস করছি যে নায়িকা দের নিয়ে একলা হতে চাইতাম তার মধ্যে তোর নাম ছিল না,,তুই সালা নায়িকাই ছিলি না,,বেঢপ মাল ছিলি,,আচ্ছা  তুই কেন কোনদিনও বলিসনি যে ম্যাডি টা কে ?? 

তোর বাবার সাথে বেশিদিনের আলাপ ছিল না,, খিটকেল বুড়ো টা তোকে যেভাবে বাঘের মত ঘিরে থাকত তাতে আমরা তোর বাবাকে আড়ালে সিমরনের বাবা বলতাম ,,তুই জানতিস ?, অনেকদিন পর  ওনাকে কাল দেখলাম,, চড়া রোদে তরতর করে ঘামছিল বুড়ো লোকটা,,জুলাই মাসের প্রথম হলেও এখনো রোদের বড্ড তেজ,,লাইনটাও বড়,,সবাই ব্যস্ত,,একটা ডাউস মার্কা ব্যাগ ভর্তি রোগা রোগা কিছু সবজি আর হলুদ কালো মেশান কয়েকটা আম আর লিচুর ডাল দেখলাম হাতে,,কিলো খানেক হবে,,ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলছিল লোকটা সুস্থ নয়,,ভাবতে ভাবতেই গেল গেল রব,,লোকটা পড়ল,,,আমার পায়ের কাছেই,,,অজ্ঞান,

জ্ঞান ফেরার পর ওনাকে বাড়ি পৌঁছতে গেছলাম,,তোদের বাঘের ঘরে প্রথম প্রবেশ,,,চমকালাম,,তোকে দেখবো ভাবিনি,,তুই সেই কালো রুপসী বালা আজ আর নেই রে,,অকাল বার্ধক্যে প্রায় বুড়ী হয়ে গেছিস,, প্রায় উলঙ্গ ঘর আর অবাক চোখে দুটো ন্যাংটো ছেলের কান্না,,,একটা অদ্ভুত অসুস্থতা,,,কিছুই বলতে পারছিলাম না বিশ্বাস কর ,,,, ভীষন অস্বস্তি লাগছিল,,, তোকে এভাবে কখনো কল্পনাও করিনি,,তোর চোখে কি যেন দেখলাম,,বিশ্বাস কর বেণীমাধব ঝলসে যাচ্ছিল,,তাই বেরিয়ে এলাম ।

শুনলাম তুই স্বামী পরিত্যক্তা,, থমকালাম,,অনেক কিছু ফ্ল্যাশ ব্যাক হলো,,এখনো রক্তক্ষরন হচ্ছে,,ইমোশন খুব স্টুপিড হয় রে,,লজিক বোঝে না ।

অনেকে বলেন গল্পের শেষ মধুর না হলে নাকি সে গল্প আরো কিছুদিন চলে যত দিন না শেষ টা মধুর হয়,,আশায় রইলাম,,তোর জন্য আশায় রইলাম,,জানি একদিন শেষটা মধুর হবেই,,

এখনো মেলাচ্ছি ২০ বছর আগের সেই রূপসীকে,, তার পাহারাদার বাঘটাকে,,আজকের ঘামে ভেজা বুড়োটাকে আর

আমাদের ” রহনা হে তেরে দিল মে “কে,,,

আজ ছাড়লাম রে,,তবে শেষ করলাম না,,অনেক কথা বলার আছে,,

আবার লিখবো,,অনেক লিখবো,,আর তোর নম্বরে পোস্ট করে ” “আনসেন্ড ” করবো,, ভালো থাকিস,,

ইতি

কহো না প্যার হ্যা,,

47