বাড়ি নদিয়া জেলার চাকদহে। সেখানে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। অথচ বিগত দীর্ঘ পাচ মাস ধরে মৃত্যু ভয় পরোয়া না করে করোনা রোগীদের একটানা সেবা করে চলেছেন মিকিমেঘা কোভিড হাসপাতালের নার্সিং স্টাফ বাপি বিশ্বাস । কোভিড রুগী থেকে চিকিৎসক সবার কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন মুশকিল আসান। ভিন জেলার বাসিন্দা বাপি বিশ্বাস এখন উত্তর দিনাজপুর জেলার করোনা রুগীদের সেবায় নিয়োজিত সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের একজন। করোনা রুগীদের সেবা করতে করতে নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এখানেই চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে না গিয়েই আবার কোভিড রুগীদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।

এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, “মানুষ অকারণে আতঙ্কিত হচ্ছে। কোভিড ফ্লু-এর মতই একটি সাধারণ রোগ। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে কোভিড রুগীদের সেবা করে তিনি দেখেছেন শতকরা 99.9 ভাগ মানুষ সুস্থ হয়ে এখান থেকে বাড়ি ফিরেছে। যে তিন-চার জন মানুষ এখানে মারা গেছে তাদের সবারই অন্য কোনো জটিল অসুখ ছিল বা খুব বয়স্ক মানুষ তারা। তার আবেদন অযথা আতঙ্কিত হবেন না। সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি যেমন মাস্ক পরা, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা, মাঝে হাত মুখ ধোয়া বা স্যানিটাইজ করা, এগুলো মেনে চললেই রোগের সংক্রমণ থেকে বাঁচা যেতে পারে। যারা হোম আইসোলেশনে থাকতে চান তারা পৃথকভাবে বাড়ির লোকের সাথে দুরত্ব বজায় রেখে থাকুন। ভিটামিন ও হাই প্রোটিন ডায়েট নিন। অসুস্থ বোধ করলে হাসপাতালে আসুন। “

গতকাল শনিবার স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যা বেলা রায়গঞ্জের নাগরিক সমাজের মধ্যে থেকে গড়ে ওঠা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা “সাপোর্ট কোভিড কমিউনিটি” – র পক্ষ থেকে মিকিমেঘা হাসপাতাল চত্বরে একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে কোভিড যোদ্ধা হিসেবে বাপি বিশ্বাস কে সম্বর্ধনা জানানো হয়। সংস্থার আহ্বায়ক অরূপ ঘোষ – শাহীদুর রহমান ছাড়াও সুব্রত গুহ, শুভ্র সংকর নাগ এবং অরিন্দম ঝা বাপি বিশ্বাস কে সম্বর্ধনা জানান। রায়গঞ্জ তথা উত্তর দিনাজপুর জেলা বাসীর পক্ষ থেকে বাপি বাবুকে এখানকার কোভিড পেশেন্টদের সেবায় নিষ্ঠার সাথে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার জন্য নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

96