এমনিতেই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় ডাক্তার নার্সের সংখ্যা ঘাটতি। তার মধ্যেই করোনা সংক্রমণে একের পর এক ডাক্তারের মৃত্যুসংবাদ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল করে তুলছে। ইতিমধ্যেই সরকারি চিকিৎসাব্যবস্থায় যুক্ত ডাক্তার সংগঠন এবিষয়ে একাধিক স্বারকলিপি ও আর্জি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে। তারই মধ্যে গতকাল রাজ্যে একদিনেই করোনা আক্রান্ত হয়ে ৩ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে৷ সামনের সারির করোনা যোদ্ধাদের মৃত্যুতে চিকিৎসক মহলে আতঙ্কের ছায়া৷
জানা গেছে, মৃত চিকিৎসকরা হলেন, কোঠারি হাসপাতালের চিকিৎসক তাপস সিংহ,ব্যারাকপুরের চক্ষু চিকিৎসক বিশ্বজিৎ মন্ডল, শ্যামনগরের চিকিৎসক প্রদীপ ভট্টাচার্য৷
তবে এর মধ্যে প্রদীপবাবু কোনও হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, ব্যক্তিগত ভাবে রোগী দেখতেন৷ কিছুদিন আগে তার করোনা পরীক্ষায় রিপোর্ট পজিটিভ আসে৷ তারপর তাকে মেডিকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ সেখানেই তার মৃত্যু হয়৷

প্রসঙ্গত এর আগেও করোনায় কেড়ে নিয়েছে কয়েকজন চিকিৎসকের প্রাণ৷ কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তরুণ চিকিৎসক নীতিশ কুমারের৷ বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৬ বছর৷ রেখে গিয়েছেন স্ত্রী ও ২ বছরের ছেলেকে৷ জানা গিয়েছিল, আরএন টেগোর হাসপাতালের কার্ডিওভাস্কুলার সায়েন্স বিভাগের চিকিৎসক ছিলেন নীতিশ৷ করোনায় আক্রান্ত হয়ে ওই বেসরকারি হাসপাতালেই ভর্তি হন৷ অনেক চেষ্টা করেও তার সহকর্মী চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি৷এছাড়া শহর কলকাতায় করোনায় আরো এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছিল এর আগে৷ একটি বেসরকারি হাসপাতালে ওই চিকিৎসকের মৃত্যু হয়৷ তারও আগে করোনা আক্রান্ত হয়ে এ রাজ্যের দুই নামী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছিল৷
জানা গিয়েছিল, মৃত চিকিৎসকের নাম তরুনকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর৷ তিনি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে একজন প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক ছিলেন৷ একেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তীব্র গতিতে, দেশ জুড়ে গোষ্ঠী সংক্রমণের ভয়াবহতা। তারই মধ্যে একের পর এক কোভিড যোদ্ধার মৃত্যু নিঃসন্দেহে ভয়ঙ্কর।

53