৮/৮/২০২০,ওয়েবডেস্কঃবিশ্বের তাবড় তাবড় দেশ হোক কি উন্নতশীল ভারতবর্ষের মতো দেশ, সারা পৃথিবীই আজ নাজেহাল করোনা ভাইরাসের প্রকোপ। স্বভাবতই একদিকে মরিয়া চেষ্টা এবং অন্যদিকে জনমানসে তীব্র উৎকণ্ঠার পারদ চড়ছে প্রতিষেধক কে কেন্দ্র করে। এক্ষেত্রে রাশিয়ার তৈরি ভ্যাকসিন ইতোমধ্যে বিশ্বে সাড়া জাগালেও এখনও পর্যন্ত অক্সফোর্ডের করোনা-ভ্যাকসিনই সবথেকে বেশি নির্ভরশীলতার পথে হাঁটছে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েক ধাপ অতিক্রমও করে গিয়েছে অক্সফোর্ডের সেই ভ্যাকসিন। আর অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কয়েক ধাপ পরীক্ষায় পাশ করতেই ভারতের পুনে শহরের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া সংস্থাটির উপর প্রচারের আলো এসে পড়েছে। কারণ ভারতে সেই ভ্যাকসিন তৈরির দায়িত্ব নিয়েছে পুনের সংস্থাটি। এবার আরো এক চমকপ্রদ খবর। অভূতপূর্বভাবে সিরামের সঙ্গে হাত মেলালেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বিল গেটস!
মারণ ভাইরাস করোনার ভ্যাকসিন ভারতের বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছে দিতে GAVI এবং বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে চুক্তি করল ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। আর এই চুক্তির অন্যতম কারণই হল, অনুন্নত দেশগুলিতে যাতে গরিব মানুষের কাছে অত্যন্ত সস্তায় ভ্যাকসিনটি পৌঁছে দেওয়া যায়। জানা গিয়েছে, অক্সফোর্ডের সেই ভ্যাকসিনের প্রতিটি ডোজের দাম হতে পারে ৩ ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় মাত্র ২২৫ টাকা! ভারত ছাড়াও বিশ্বের আরও ৯২টি দেশে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে সিরাম। সেই সূত্রেই ১০ কোটি ভ্যাকসিন তৈরির জন্য GAVI এবং বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ১৫ কোটি ডলার তুলে দিয়েছে ভারতের সেরাম সংস্থার হাতে।
তবে শুধু অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ChAdOx1 nCoV-19 ভ্যাকসিনটি নয়, ভারতের ICMR-ভারত বায়োটেকের যৌথ উদ্যোগে তৈরি কোভ্যাকসিন, জাইডাস ক্যাডিলার ZyCov-D, মডার্ণা, ফাইজারের মতো সংস্থাও ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করে চলেছে। কিন্তু গোটা বিশ্বে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনটিকেই আপাতত সবচেয়ে বেশি নম্বর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকী অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল যে ব্যাপক হারে ভারতেও হবে, তা ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। এখন শুধুই আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা।

27