করোনা আবহে বিশ্বজুড়ে লকডাউনের ধাক্কায় যখন নাজেহাল বিশ্বের তাবর তাবর ধনী ব্যবসায়ীরা তখন ভারতের মুকেশ আম্বানির জন্য চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। লকডাউনে কোনো প্রভাব তো পরেইনি মুকেশের সাম্রাজ্যে বরং এই সময়ে তার আয় বেড়েছে চমকে দেওয়ার মত।ফলে বিশ্বে ধনকুবেরদের তালিকায় তিনি চতুর্থ স্থানে উঠে এলেন। গত পাঁচ বছরে মুকেশ দ্রুত গতিতে তার ব্যবসার উথ্থান ঘটিয়েছেন। পাঁচ বছর আগে ২০১৫ সালে ফোর্বসের বিশ্বের সেরা ১০০ ধনকুবেরদের তালিকায় তার স্থান ছিল ৩৯ তম। সেখান থেকে তার দ্রুত উথ্থান তাৎপর্যপূর্ণ।

ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির মোট সম্পদের পরিমাণ ৮০.৬ বিলিয়ন বা ৮০৬০ কোটি মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৬ লক্ষ ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে শুধুমাত্র চলতি বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ২২ বিলিয়ন বা ২ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। ব্লুমবার্গের বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তির তালিকায় চার নম্বরে ছিল ফরাসি শিল্পপতি বার্নার্ড আরনল্ট। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর সংস্থা LVMH-এর আয় ধাক্কা খেয়েছে। যার ফলে সম্পদের নিরিখে ইউরোপের ধনীতম ব্যক্তিকে পিছনে ফেলে দিলেন ভারতের অনিল আম্বানি।

গত কয়েক সপ্তাহে সবাইকে চমকে দিয়ে বিশ্বের একের পর এক ধনকুবেরকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন ভারতের ধনীতম ব্যক্তি মুকেশ আম্বানি। এই তালিকায় আছে টেসলা এবং স্পেসএক্সের প্রধান এলন মাস্ক এবং অ্যালফাবেটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন ও লরি পেজের মতো সিলিকন ভ্যালির একাধিক রত্ন। এমনকী জুলাই মাসের মাঝামাঝি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের সিইও ওয়ারেন বাফেটের থেকেও আম্বানির সম্পদের পরিমাণ ছাপিয়ে যায়।


সম্প্রতিক সময়ে ভারতে ই-কমার্স ব্যবসার প্রতি বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেছে রিলায়েন্স। পাশাপাশি এদেশে ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল ব্যবসায় পায়ের তলার মাটি আরও শক্ত করতে তৎপর তারা। পরের বছরই আসছে জিও-র 5G পরিষেবা। এই সংস্থায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করেছে Google। সম্প্রতি Jio প্ল্যাটফর্মের ৭.৭ শতাংশ শেয়ার কিনতে চলেছে গুগল (Google)। মোট ₹৩৩,৭৩৭ কোটির বিনিময়ে এই অংশদারীত্ব নেবে সুন্দর পিচাইয়ের সংস্থা। গুগলের সঙ্গে এই চুক্তির জেরে Jio-তে বিনিয়োগের মোট অঙ্ক বেড়ে দাঁড়াল ১৫২,০০০ কোটিতে।

22