গত রবিবার চোপড়ায় সদ্য মাধ্যমিক পাশ কিশোরীর মৃত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চোপড়া সহ উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন জায়গা। পরেরদিন অভিযুক্ত যুবকের দেহ নয়ানজুলিতে ভেসে উঠলে অনেকেই চমকে যায়। এবার তদন্তে নেমে মৃতা কিশোরীর বাড়ির লোকদের জেরা করার পর গ্রেফতার করা হল মৃতার বাবা, বিজেপি কর্মী মৃতার দুই দাদা সহ চার জনকে। ফলে ঘটনা সম্পূর্ণ নতুন দিকে মোড় নিতে শুরু করেছে।কোনো কোনো মহল থেকে অনার কিলিং এর তত্ত্ব সামনে আসছে। যদি শেষ পর্যন্ত এই তত্ত্ব প্রমানিত হয় তবে পশ্চিমবঙ্গে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের অনার কিলিং এর সংস্কৃতির আবির্ভাব ঘটতে শুরু করেছে তা মনে করা যেতেই পারে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রবিবার।উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ায় ঐ দিন মাম্পি সিংহ নামে এক সদ্য মাধ্যমিক পাশ কিশোরীর মৃত দেহ পাওয়া যায় তার বাড়ি থেকে কিছুটা দুরে। মৃতার বাড়ির লোকজন সহ গ্রামের কিছু মানুষ দাবি করে মৃতাকে গণ ধর্ষণ করে গলায় বিষ ঢেলে হত্যা করা হয়েছে। তারা এর জন্য সরাসরি ফিরোজ নামক এক কিশোরকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে দাবি করে। কারন নাকি ঘটনাস্থল থেকে ফিরোজের মোবাইল সাইকেল ও পার্স তারা করিয়ে পেয়েছে। এরপরই দোষীদের ফাসীর দাবিতে রাস্তা অবরোধ শুরু হয়। বিজেপি আন্দোলন কে উস্কে দিয়ে জেলার বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ শুরু করে। ঘটনায় সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ কে সামনে আনা হয়। চোপড়ায় আন্দোলনকারীরা হিংসাত্বক হয়ে ওঠে ।একটি সরকারি বাস ও পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানো হয়। মৃতার দাদা অভিযোগ করে যে সে বিজেপি কর্মী বলেই তার বোনের উপর তৃণমূল দুস্কৃতিরা আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। বিজেপির বেশ কিছু নেতা-সাংসদ উত্তর দিনাজপুরে ছুটে আসেন।

এদিকে গতকাল অভিযুক্তের দেহ কাছেই একটি নয়ানজুলিতে ভেসে উঠলে ঘটনা অন্য দিকে মোড় নিতে শুরু করে। জেলার অন্য অংশের মানুষ দুটো মৃত্যুর তদন্তের দাবি করে। অন্যদিকে রাজ্য পুলিশের একটি ফেসবুক পোস্টে বিবৃতিতে জানানো হয় কিশোরী মৃত্যুর ঘটনায় ফিরোজ নামক কিশোরকে মুল অভিযুক্ত করে শাস্তি চেয়ে আন্দোলন করা হলেও মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ জানানো হয় নি। পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়েই তদন্ত করছে। এদিকে নয়ানজুলি তে ভেসে ওঠা অভিযুক্ত কিশোরের পরিবার থেকে মৃতার বাবা ও দাদা সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্তদের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে অবশেষে চারজন কে গ্রেফতার করে। তাদের আদালতে তোলা হলে অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজত দেওয়া হয়। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে কি আসলে ভিন্ন ধর্মের সহপাঠী কিশোর – কিশোরীর প্রেমের মর্মান্তিক পরিণতি তাদের মৃত্যু (খুন?) পর্যন্ত গড়ালো?

16