মধুসূদন দাস

জুলাই, ২০,২০২০: গ্রামের বা শহর সব অঞ্চলের মানুষের কাছেই অতিপরিচিত থানকুনি গাছ । একসময় রাস্তার দু’পাশে, মাঠের জমির আলে, পুকুর পাড়ে, এমনকি গ্রামের মানুষের বাড়ির উঠানে প্রচুর দেখা যেত এই থানকুনি গাছ ।
প্রাচীনকাল থেকেই এটি ভেষজ উদ্ভিদের মর্যাদা লাভ করে আসছে । ভারতের বাইরে এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন প্রান্তেও এই উদ্ভিদটি পাওয়া যায় । আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বিদ্যায় এটি একটি বিখ্যাত উদ্ভিদ ।

ছবি থানকুনি পাতা কে অঞ্চল ভেদে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়ে থাকে । ইংরেজিতে একে Indian pennywort বলা হয় ।

আসুন এবার থানকুনি পাতার ঔষধি গুনাগুন সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেওয়া যাক:-

থানকুনি পাতা প্রধানত পেটের অসুখে বা আমাশায় দারুণ উপকারী । এছাড়া সর্দি-কাশি, মুখে ঘা, গলায় ব্যথা, মাথা ঠান্ডা রাখা, লিভারের ক্ষত রোধ করা, দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করা এবং হালকা ক্ষতস্থানে অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করার ফলে সুপ্রাচীন কাল থেকেই চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে থানকুনি ।

থানকুনির পাতা, মূল, কাণ্ড সবটাই ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয় । এই উদ্ভিদটি এক প্রকার অবহেলাতেই জন্মায় ও বেড়ে ওঠে । গাছটি বাড়িতে টবে চাষ করা যেতে পারে এর জন্য পরিচর্যার তেমন কোন দরকারই হয় না । শুধুমাত্র সময়মতো জল দিলেই যথেষ্ট ।

তবে আবহাওয়া পরিবর্তন, অতিরিক্ত দূষণ, চাষের জমিতে রাসায়নিক ও কীটনাশক প্রয়োগ, রাস্তাঘাট কংক্রিট হয়ে যাওয়া ও সভ্যতার বিবর্তনের সাথে সাথে এটি এখন বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদে পরিণত হয়েছে । এই সকল ভেষজ উদ্ভিদ গুলিকে সংরক্ষণ করা বা বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি ।

আসুন আমরা নিজেকে সুস্থ্য রাখতে প্রকৃতির যত্ন নিই। বাংলার মাঠেঘাটে অতি অবহেলায় পরে থাকা জানা অজানা নানা সবুজ ঔষধির যত্ন নিতে শুরু করি আমারা।

19