একই রাজ্য। একই পুলিশ। দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের প্রতি একদম বিপরীত মুখ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠলো।মঙ্গলবার রাজ্যের দুই প্রান্তে পুলিশের আচরণের দুই ছবি ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। দুই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পুলিশি আচরণ নিয়ে সরব এসএফআই। দুই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার দুই ভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মীরা এবং দুই ক্ষেত্রে পুলিশের আলাদা আলাদা ব্যবহার চোখে লাগার মত বলেই অভিমত বহু মানুষের।

গতকাল একদিকে সম্প্রতি বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে কোনো হাসপাতালেই ভর্তি না নেওয়ায় বিনা চিকিৎসায় একইরকম ভাবে একের পর এক হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে কোনো চিকিৎসা না পেয়ে বেঘোরে মারা যান ১৮ বছরের শুভ্রজিত ভট্টাচার্য ও অপর যুবক অশোক রুইদাস। মারা যান সন্তোষপুরের মনীষা দাসও। এর পরেই এই ঘটনাবলীর প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্যের বাম ছাত্র সংগঠন এস এফ আই-এর পক্ষ থেকে মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্যভবন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার রাজ্যের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এবং স্বাস্থ্য ভবনের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচী চলাকালীন হঠাৎ পুলিশ মারমুখী হয়ে ওঠে। নিরস্ত্র তরুণ ছাত্র-ছাত্রীদের বেধরক মারধর করে। রাস্তায় ফেলে লাথি মারতে দেখা যায় প্রসেনজিৎ দাস নামক ছাত্র নেতাকে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার হন SFI’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড ময়ূখ বিশ্বাস, রাজ্য সম্পাদক কমরেড সৃজন ভট্টাচার্য, রাজ্য সভাপতি কমরেড প্রতীক উর রহমান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। পুলিশ গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদের টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় ইলেক্ট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায়। সেখান থেকে সন্ধ্যেয় এস এফ আই নেতা কর্মীদের শর্তহীন মুক্তি দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, গত সোমবার হেমতাবাদে সিপিআই(এম)-এর টিকিটে জিতে বিজেপিতে যোগ দেওয়া বিজেপি বিধায়কের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাপান উতোর শুরু হয়। হত্যা অথবা আত্মহত্যা – সেই বিষয়টি পরিষ্কার হবার আগেই রাস্তায় নেমে পড়ে বিজেপি। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ বনধের ডাক দেওয়া হয় বিজেপির পক্ষ থেকে। যা নিয়ে কটাক্ষ করে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয় ‘লাশের রাজনীতি করছে বিজেপি’।

এদিন সেই বনধের সমর্থনে রাস্তায় নেমে সকালে জলপাইগুড়িতে গ্রেপ্তার হন কিছু বিজেপি কর্মী সমর্থক। পুরুষদের রাখা হয় কোতোয়ালি থানায়। মহিলাদের নিয়ে যাওয়া হয় মহিলা থানায়। থানাতেই দুপুরে গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীদের খাসির মাংস, সোয়াবিনের তরকারি, ডাল, ভাত দিয়ে রীতিমতো ভোজ খাওয়ানো হয় পুলিশের তরফে। একথা জানান গ্রেপ্তার হওয়া বিজেপি নেতা মানস মুস্তাফী। যে ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়

এই প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজেই প্রমাণ করে দিচ্ছেন উনি বিজেপির বি টিম। উনি বুঝে গেছেন সরকার চলে যাবে। ওনার এখন একমাত্র কাজ বিজেপিকে যে কোনো মূল্যে শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার চেষ্টা করে যাওয়া। আর কেউ যাতে এই ক্ষমতায় ভাগ না বসাতে পারে। এটা পরিষ্কার যে রাজ্য সরকার কাদের বিরোধী হিসেবে ভয় পায়।”

20