সুস্থ হয়ে বাড়িতে ঢোকার প্রাকমুহুর্তে

ওয়েবডেস্ক জুলাই ৬,২০২০: সারাদিন মায়ের আলতা নিয়ে খবরের কাগজে নানান প্রতিবাদের কথা লিখতেন। আবার মায়ের কাছেই আঠা বানানোর আবদার । পরে সেই পোষ্টার একাই দেয়ালে দেয়ালে লাগাতেন। একদিন খবরের কাগজের উপর নারী মুক্তির কথা ও মহিলা সমিতির সম্মেলনের পোষ্টার দেখে তার মা তাকে কৌতূহলবশতঃ বলেই ফেললেন কিরে তুই আবার মহিলা সমিতিও করিস নাকি? এর প্রত‍্যুত্তরে তিনি শুধুই হেসেছিলেন। সে প্রায় ৫০ বছর আগের কথা। ঘাত প্রতিঘাত এ ভরা শিলিগুড়ির রাজনীতিতে চলেছে পালাবদলের খেলা। কিন্তু কিছুই থামাতে পারেনি এই লড়াকু নেতাকে। প্রবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পরাভূত করেছেন বারবার। আজ করোনাকে পরাজিত করে বাড়ি ফিরলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক অশোক ভট্টাচার্য। বেলা ১২:৪৫ নাগাদ তাকে কোভিড হসপিটাল থেকে রিলিজ করা হয়। হসপিটাল সূত্র থেকে খবর আরও ১৪ দিন তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।তাকে ঘিরে শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোড এর সিপিএম কার্যালয় অনিল বিশ্বাস ভবনে দলীয় কর্মীদের মধ্যে দেখা যায় উন্মাদনা।

সপ্তাহ তিনেক আগে তাঁর করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে আশঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন অনুগামীরা। হার্টের সমস্যা ছিল আগেই, তার মধ্যেই মারণ করোনার সংক্রমণ। বাম নেতা তথা শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক অশোক ভট্টাচার্য করোনা আক্রান্ত হয়েই বার্তা দিয়েছিলেন ‘লড়াই চলবে’। বাস্তবেও লড়াই চালালেন তিনি। সেরে উঠলেন করোনা থেকে। তাঁর শেষ করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল।

হাসপাতাল থেকেই তিনি বলেছেন,” প্রথম অভিজ্ঞতা হলো করোনা হলেই মৃত্যু নয়। মরার আগেই মরবো কেন? লড়াই করার মানসিকতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটা নির্ভর করে early detection and early treatment-এর উপরে।

করোনা রোগীদের উদ্দেশে তিনি বার্তা দিয়ে বলেন, ‘এত দিন শুনতাম বেশি বয়স্কদের ঝুঁকি বেশী। শিলিগুড়িতে দেখলাম ৩০ বছরের নিচের কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও অল্প দিনের মধ্যে অনেক রোগী নেগেটিভ হয়েছে। এরকম উদাহরণও আছে।”তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের তাদের ডেডিকেশন সাহসের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আরো বলেন “সমাজের যে সম্মান বা মর্যাদা স্বাস্থ্যকর্মীদের পাওয়া উচিত তা কিন্তু তারা পায় না, তাঁদের সবসময় থাকতে হয় আতঙ্কের মধ্যে। এখানেই পশ্চিমবঙ্গের মতো একটি প্রগেসিভ রাজ্যের লজ্জা।”

56