কণক রঞ্জন সেন

‘সান্দাকফু’ পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়। এই নামটাই অনেক অভিযাত্রীর মনের দুর্বার আকর্ষণ। কিশোর বয়সে এই পাহাড়ের কথা অনেক শুনেছি। তখন থেকেই মনের মধ্যে গেঁথে গিয়েছিল নামটা। কিন্তু অর্থের অভাব ও অন্যান্য কারনে যাওয়া হয়নি। পরবর্তী কালে চাকরি পাওয়ার পর থেকেই ভাবতে থাকি ‘সান্দাকফু’ যাওয়ার কথা।

শেষ পর্যন্ত HMTA এর সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার পর 1990 সালে যাওয়ার সুযোগ আসে। ঐ বছর পূজার পর আমরা 15 জন এই অভিযানে সামিল হই।
জুলাই আগস্ট মাস থেকেই ক্লাবের অভিজ্ঞ সদস্যরা এবং আমার মত আনাড়ি স‌দস্য ও কয়েকজন ছাত্র যারা সবে মাধ্যমিক পাশ করেছে এদের নিয়ে প্রস্তুতি চলতে থাকে। সকলকেই হাঁটা, দৌড়, শরীরচর্চা করার জন্য রোজ সকালে মাঠে যেতে হতো নিয়মকরে। প্রথম দিনের টিম মিটিংয়ে ঠিক হয়েছিল আমরা রায়গঞ্জ থেকে বাসে শিলিগুড়ি যাব। সেখান থেকে ছোট গাড়িতে মানেভঞ্জন নামে একটি জায়গায় যেতে হবে।

সেই মতো প্রস্তুতি চলতে থাকে। দুদিন আগে থেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন চাল, আটা, বিস্কুট, তেল, মশলা, মোমবাতি, দেশলাই, কেরোসিন, তেল, মুড়ি-চানাচুর প্রভৃতি কত যে টুকিটাকি জিনিস কেনা হল তা লিখে শেষ করা যাবে না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত 15 জন সদস্যের 5 দিনের জন্য যা যা প্রয়োজন সব হিসেব করে পরিমাণ মতো কেনা হল।

রওনা হওয়ার আগের দিন সবাই মিলে বসে গেলাম মালপত্র প্যাকিং করতে। সব কিছুর ছোট ছোট প্যাকেট করা হল। সেদিনই সন্ধ্যাবেলায় জানতে পারলাম আমাদের দলের লিডার গৌড় শংকর মিত্র(নুটুদা) অফিস থেকে ছুটি না পাওয়ায় আমাদের সাথে যেতে পারছে না। ও পরেরদিন সকালে আমাদের সাথে দার্জিলিং এ যোগ দেবে। ঠিক হল আমরা প্রথম দিন মানেভঞ্জন না গিয়ে দার্জিলিংয়েই থাকব। পরের দিন নুটুদা আসার পর সকলে মিলে মানেভঞ্জন রওনা দেব। এই পরিকল্পনা পরিবর্তনের কথা কিন্তু দলের সকলকে জানানো সম্ভব হয়নি।

শিলিগুড়িতে পৌঁছে অনেক পরে প্রায় সাড়ে বারোটার দিকে একটি সরকারি মিনিবাসে চড়ে বসলাম ( তখন সরকারি বাস চলত দার্জিলিংয়ে)। বাসে ভিড় থাকায় ও সকলের সীট না হওয়ায় আমরা কয়েকজন বাসের মাথায় চেপেই পৌঁছে যাই দার্জিলিং।

পৌঁছতে পৌঁছতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যায়। বাসের ভেতরে থাকা সদস্যরা 14 জনের ভাড়া দিয়ে দেয়। কিন্তু কন্ডাক্টারের মোট সদস্য সংখ্যা সম্বন্ধে সন্দেহ হয়। ভাবে হয়ত কম যাত্রীর ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তাই সে প্রথমে বাসের উপরের যাত্রী গুনে দেখে তারপর এক এক করে বাস থেকে যাত্রী নামাতে থাকে। গুনে দেখা যায় আমাদের 12 জন বাস থেকে নামলো। আমরা ভাবলাম হয়তো গুনতে ভুল হয়েছে, কারন আমরাতো 14 জন। ভাল করে গুনে দেখা গেল দুজন নেই। তমাল স্যান্যাল আর খগেন বর্মন। দুইজনেই বাচ্চা ছেলে। ব্যাগ গুনে দেখা গেল 14 টি ব্যাগ ই রয়েছে। তবে ওরা গেল কোথায়?

(আগামি পর্বে সমাপ্তি)

14