পুলিশ হেফাজতে মৃত বাবা ছেলে:গ্রেফতার আরো ৪

ওয়েবডেস্ক, জুলাই,৩,২০২০:পুলিশ হেফাজতে তামিলনাড়ুর বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় আরো চার পুলিশকর্মীকে গ্রেপ্তার করল সেই রাজ্যের সিআইডি। তুতিকোরিনের ওই ঘটনা নিয়ে গত ২৫ জুন থেকে উত্তাল তামিলনাড়ু। বুধবার রাতে সিআইডির আইজির নেতৃত্বাধীন স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসাররা চার জন অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। তুতিকোরিনের ইনস্পেক্টর শ্রীধর, সাব ইনস্পেক্টর বালাকৃষ্ণন এবং কনস্টেবল মুরুগানকে ও মুথুরাজকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।
অভিযোগ গত ১৯শে জুন লকডাউন কার্ফু লঙ্ঘন করে ১৫ মিনিট বেশি মোবাইল ফোনের দোকান খোলা রেখেছিলেন ৫৯ বছরের জয়রাজ।

পরে পুলিশ যখন তার দোকান বন্ধ করে তখন পুলিশ সম্পর্কে তুমি একটি বিরূপ মন্তব্য করে যেটি আবার একটি একজন অটোচালক পুলিশের কানে তুলে দেয়। ঠিক তখনই পুলিশ ধরে নিয়ে যায় পরে তাঁর ছেলে ৩১ বছরের জে বেনিক্স বাবা তার বাবাকে থানায় দেখতে গেলে তিনি দেখেন যে তার বাবাকে পুলিশ মারধর করছে তিনি ঠেকাতে গেলে তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারপর তাঁদের পূর্ব কোভিলপট্টি সাব-জেলে রেখে মারধর করা হয়। মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়া জয়রাজ এবং বেনিক্সকে ২২ জুন কোভিলপট্টি হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে সেই রাতেই মারা যান বেনিক্স। জয়রাজ পরদিন মারা যান। জয়রাজের মেডিকেল রিপোর্ট থেকে সন্দেহ করা হচ্ছে মারা যাবার আগে তার সাথে জোর করে পায়ুসঙ্গম করা হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশ হেফাজতে অত্যাচারের ঘটনা তামিলনাড়ুতে বিরল নয়। এর আগেও কোর্টে অনেক বন্দিকে তোলা হয়েছে হাত পা ভাঙা অবস্থায়। সেক্ষেত্রে পুলিশ সাধারণত কোর্টকে জানায়, পিচ্ছিল বাথরুমে পড়ে গিয়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ হেফাজতে বাবা-ছেলের মৃত্যু তে উত্তাল হয়ে উঠেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। নিন্দার ঝড় ওঠে দেশে।

প্রথমে গোটা ব্যাপারটি ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করে তামিলনাড়ু পুলিশ। পরে একটি স্বতপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট ঠিক তখনই নড়েচড়ে বসে তামিলনাড়ু সরকার। এক মহিলা পুলিশ হেড কনস্টেবল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে জবানবন্দি দেন সারারাত ধরে পুলিশ হেফাজতে মারধর করা হয় ওই বাবা ও ছেলেকে।

গত বুধবার গ্রেফতার করা হয় সাসপেনশনে থাকা পুলিশ সাব ইন্সপেক্টর রঘু গণেশকে। গতকাল গ্রেপ্তার করা হলো আরো চারজনকে। মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ নং ধারায় মার্ডারের মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়াও মূল অভিযুক্ত রঘুগণেশ এবং বালাকৃষ্ণণের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল। দুই সাব ইনসপেক্টর সহ চার পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এই ঘটনায়। মুখ্যমন্ত্রী ই কে পালানিস্বামী দু’জনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। যদিও পুলিশের অত্যাচার নিয়ে তিনি মুখ খোলেননি। তিনি মৃতদের পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপুরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। পরিবারের একজনকে চাকরিও দেবেন বলেছেন।

231