ভানু কিশোর সরকার

জুন ৩০,২০২০: কোভিড 19 বা করোনার দৌলতে আজ সবাই জেনে গেছেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার এর নাম।এর আবিষ্কার বেশি পুরোনো নয়। মাত্র ৫৪ বছর আগে অখ্যাত এক নার্স লুপি ফার্নান্ডেজ এর তৈরি এর ফর্মুলা সংক্রমণ রুখছে।

গত শতাব্দীর ষাটের দশকে ক্যালিফোর্নিয়ার বেকারসফিল্ডে একটি হাসপাতালে নার্সিং এর কাজ করতেন একজন লাতিন আমেরিকার তরুণী রুপি ফার্নান্ডেজ। তিনি লক্ষ্য করেন যে ইনজেকশন দেওয়ার পূর্বে ইনজেকশন দেবার জায়গাটি স্পিরিট বা অ্যালকোহল দিয়ে মুছে নেওয়া হয়। অ্যালকোহল বা স্পিরিট এর সাথে গ্লিসারিন বা জেল মিশিয়ে ব্যবহার করলে যে তরল পদার্থটি তৈরি হয় সেটা সাবান বা জলের মতই জীবাণু পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার করা যায়। সাবান বা জল যখন পাওয়া যাবে না তখন এদিকেই বহনযোগ্য করে ব্যবহার করা যাবে। জীবাণুদের থেকে পরিচ্ছন্ন থাকা যায়। এভাবেই শুরু নতুন এই মেডিক্যাল দ্রব্যের পথচলা। করোনার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যার কথা ছড়িয়ে গেছে। সেই বিশেষ দ্রব্যটির নাম হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

১৯৬৬ সালে এর ফর্মুলা আবিষ্কার করার পর সাধারণত হাসপাতালগুলোতে এটা ব্যবহৃত হতে থাকে। সাধারণের কাছে স্যানিটাইজার এর বিষয় ও গুরুত্ব সেভাবে পৌঁছচ্ছিল না।

 এটা বুঝতে পেরে লুপি এটা তৈরি করা যে সহজ ,মানুষের উপকারে আসতে পারে ও বাজারে নিয়ে আসা যায় সেই লক্ষ্যে একটি টেলিভিশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে তিনি একে জনতার সামনে নিয়ে আসেন। বাকিটা ইতিহাস । আমেরিকার সমস্ত ঔষধ এর কোম্পানি লুফে নেয় এই ফর্মুলা। তৈরি হয় বোতলজাত হ্যান্ড স্যানিটাইজার । হাসপাতালের প্রতিটি অপারেশন বা রোগী দেখার পরেই হোক বাড়িতে রাস্তায় সাবান না থাকলে আর জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে ভরসার নাম হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

15