ওয়েবডেস্ক জুন ৩০,২০২০ : হিন্দু মতে বিয়ে করেছেন কিন্তু শাঁখা সিঁদুর পরেন না ! তাহলে আপনি বিবাহিতই নন! হিন্দু মতে বিয়ে করে শাঁখা-সিঁদুর না পরলে এটা ধরে নিতে হবে নিজের বিবাহিত স্ট্যাটাস মানে না সেই মহিলা। ২০২০ সালে দাঁড়িয়ে এই কথা বলল গৌহাটি হাইকোর্ট। একজন ব্যক্তির ডিভোর্সের আবেদনের অনুমতি দিয়ে এই কথা বলে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।

কয়েকদিন আগে ভারতের কর্নাটক হাইকোর্টের এজলাসে দাঁড়িয়ে একজন ধর্ষিত নারী। তাকে উদ্দেশ্য করে বিচারক প্রশ্ন করেন, নারী হয়েও আপনি রাত ১১টায় কেন অফিসে গিয়েছিলেন? মদই বা খেয়েছিলেন কেন?

সেই ঘটনার ব্যাপক সমালোচনা হয়। এবার সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতেরই গুয়াহাটি হাইকোর্টের এক বিচারপতির মন্তব্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

জানা গেছে, বিয়ের কয়েক মাস পরেই ওই মহিলা যৌথ পরিবার থেকে বেরিয়ে আসতে চান। মহিলার স্বামীর অভিযোগ, আলাদা থাকতে চাওয়ার দাবি নিয়ে বাড়িতে শুরু হয় অশান্তি। যা দুজনের দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলে। এমনকি তার স্ত্রী সন্তান নিতেও চান না বলে অভিযোগ করেন স্বামী।

এর কিছুদিনের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন মহিলা। তার কিছুদিন পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। যদিও আদালত জানিয়ে দেয়, স্বামীর পক্ষের কারো এ ঘটনায় কোনো দোষ নেই।

এরপর ঐ মহিলার বিরুদ্ধে নৃশংতার অভিযোগ তুলে তার স্বামীই আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলাও আদালত বাতিল করে জানায়, স্বামীর ওপর ওই নারীর অত্যাচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এরপর মামলা যায় গুয়াহাটি হাইকোর্টে। সেখানে স্বামী অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রী শাঁখা-সিঁদুর পরতে চান না। এই দাবি অস্বীকার করেননি মহিলাও।
এরপরই হাইকোর্টের বিচারপতি বলেন, ‘যে মহিলা শাঁখা-সিঁদুর পরতে চান না, তিনি আসলে বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানটাই মানতে চান না।’ সেই মোতাবেক মহিলার স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলার পক্ষেই রায় দেন বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর থাকা মানে পুরুষটির অপদস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।’

English

শাঁখা-সিঁদুর পরেন না, মানে বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানই মানেন না!
কালের কণ্ঠ অনলাইন ৩০ জুন, ২০২০ ০৯:৪৬
শাঁখা-সিঁদুর পরেন না, মানে বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানই মানেন না!
কয়েকদিন আগে ভারতের কর্নাটক হাইকোর্টের এজলাসে দাঁড়িয়ে একজন ধর্ষিত নারী। তাকে উদ্দেশ্য করে বিচারক প্রশ্ন করেন, নারী হয়েও আপনি রাত ১১টায় কেন অফিসে গিয়েছিলেন? মদই বা খেয়েছিলেন কেন?

সেই ঘটনার ব্যাপক সমালোচনা হয়। এবার সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতেরই গুয়াহাটি হাইকোর্টের এক বিচারপতির মন্তব্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

বিবাহ বিচ্ছেদের একটি মামলার শুনানির সময় বিচারপতি ওই নারীর উদ্দেশে বলেন, শাঁখা-সিঁদুর পরেন না, মানে বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানই মানেন না! বিচারপতির এ ধরনের মন্তব্যে শোরগোল পড়ে গেছে।

জানা গেছে, বিয়ের কয়েক মাস পরেই ওই নারী যৌথ পরিবার থেকে বেরিয়ে আসতে চান। নারীর স্বামীর অভিযোগ, আলাদা থাকতে চাওয়ার দাবি নিয়ে বাড়িতে শুরু হয় অশান্তি। যা দুজনের দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলে। এমনকি ওই নারী সন্তান নিতেও চান না বলে অভিযোগ করেন স্বামী।

এর কিছুদিনের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন নারী। আর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। যদিও আদালত জানিয়ে দেয়, স্বামীর পক্ষের কারো এ ঘটনায় কোনো দোষ নেই।

এরপর নারীর বিরুদ্ধে নৃশংতার অভিযোগ তুলে তার স্বামীই আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলাও আদালত বাতিল করে জানায়, স্বামীর ওপর ওই নারীর অত্যাচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এরপর সেই মামলা যায় গুয়াহাটি হাইকোর্টে। সেখানে স্বামী অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী শাঁখা-সিঁদুর পরতে চান না। এই দাবি অস্বীকার করেননি ওই নারী।

এরপর হাইকোর্টের বিচারক বলেন, যে নারী শাঁখা-সিঁদুর পরতে চান না, তিনি আসলে বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানটাই মানতে চান না। সে অনুসারে নারীর স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলার পক্ষেই রায় দেন বিচারক।

বিচারক বলেন, এ পরিস্থিতিতে স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর থাকা মানে পুরুষটির অপদস্থ হওয়ার শঙ্কা বেড়ে যায়।

বিচারকের এ মন্তব্যের পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শাঁখা-সিঁদুর কে পরবেন আর কে পরবেন না, সেটা একজন মানুষের ব্যক্তিগত অধিকারের পর্যায়ে পড়ে। এক্ষেত্রে তাকে জোর করার অর্থ সেই মানুষটির ব্যক্তিগত অধিকারে হস্তক্ষেপ করা। তা কি আদালতও করতে পারে?

একজন নারী সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লিখেছেন, লকডাউনে আমার মঙ্গলসূত্র ভেঙে গেছে। আমি এখন তা পরছি না। তার মানে কি আমি বিবাহিত নই? অত্যন্ত বিরক্তিকর নির্দেশ।

আরেকজন লিখেছেন, নিয়ম কেন শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য? শাঁখা-সিঁদুর কেউ না পরলে তিনি জীবনসঙ্গীকে ভালোবাসেন না বা তাদের বিয়েটাকেই মানেন না, এমন দাবি অত্যন্ত নিন্দনীয়।

17