সারা পৃথিবী জুড়ে চলছে মাদক চক্রের রমরমা বাজার। পৃথিবীর একটা বিরাট অংশের ছাত্র-যুব সম্প্রদায় আক্রান্ত মাদকাসক্তিতে। মাদক চক্রের হদিশ পাওয়া যেমন কঠিন, আবার হাতে পাওয়ার পরেও তাদের শাস্তি দেওয়া আরও কঠিন। কারণ মাদক চক্রগুলি কাজ করে বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে। বিভিন্ন দেশে থাকা চক্রের পান্ডারা ক্ষমতাবানদের সঙ্গে বিভিন্ন ভাবে জড়িয়ে থাকে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে খুব সহজেই তাই চক্রগুলি চালিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মাদকের চোরাচালান। এর মাশুল গুনছে পৃথিবীর প্রতিটি দেশের সাধারন মানুষ।

হাজার ১৯৮৭ সাল থেকে ২৬ জুন তারিখটিকে জাতিসংঘ তাই মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ জাতিসংঘের অগ্রাধিকার তালিকায় অন্যতম বিষয় হল মাদকের অপব্যবহার ও চোরাচালান।চুরি ডাকাতি ছিনতাই চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের পেছনে মাদকের অবৈধ ব্যবসার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়। উদ্বেগের বিষয় এই মাদকাসক্তের ৮০% ছাত্র যুব সম্প্রদায় আক্রান্ত মাদকাসক্তিতে।এই ভয়াবহ নেশাসক্তি থেকে যুব সমাজকে বাইরে বের করে আনাই বিরাট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একবার ভাবুন,সারা পৃথিবীতে নারী নির্যাতন,দেহব্যবসার মত অন্ধকার জগতের মূলে রয়েছে মাদকাসক্তি ও চোরাচালান এর মত অবৈধ কাজ। বহুদেশিক এই চক্রগুলির ধ্বংস না করলে পৃথিবীর মুক্তি অসম্ভব।

আজ আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবস। ১৯৯৭ সাল থেকেই জাতিসংঘ আজকের দিনটিকে নির্যাতন বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। জাতিসংঘের বক্তব্য অনুযায়ী আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যে কোন নির্যাতন অপরাধ। কোন পরিস্থিতিতেই কোন মানুষের উপরে কোন ধরনের অত্যাচার বা নির্যাতন মেনে নেওয়া যায়না। তাই পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে মানুষের ওপর নির্যাতন হলে রাষ্ট্র সংঘের পক্ষ থেকে তার ওপরে হস্তক্ষেপ করে সেই ব্যক্তিকে নির্যাতনমুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। এত কিছু সত্ত্বেও পৃথিবীর নানা প্রান্তে মানুষ নির্যাতিত হচ্ছেন বিভিন্ন ভাবে এবং তার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে হঠাৎ করেই এটাই উদ্বেগের কারণ। বিশ্বের বর্তমান যে অবস্থা তাতে দেখা যাচ্ছে শক্তিধর দেশগুলির ক্ষমতায় যারা রয়েছেন তারা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই রক্ষণশীল দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
এরা প্রত্যেকেই মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে উদ্যত। আমরা ব্রাজিলে দেখতে পাচ্ছি অ্যামাজনের জঙ্গল পুড়িয়ে সেখানকার আদিবাসীদের ওপর চরম নির্যাতন নামিয়ে আনা এনেছে সে দেশের দক্ষিণ পন্থী বোলসোনারো
সরকার। আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের উপর অত্যাচার আরম্ভ হয়েছে। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু তার প্রমান।

তবে আশার কথা সারা পৃথিবীতেই মানুষ রুখে দাঁড়াতে শুরু করেছেন অন্যায়- অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে।নিজেদের ওপর হওয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের আদিবাসী মানুষরাও নেমেছেন রাস্তায়।
আমেরিকা জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর সারা আমেরিকায় যে ভয়ঙ্কর বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে তা নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনের
তীব্রতার প্রমাণ।

কিছুদিন আগে মেক্সিকোর অভিবাসীদের সঙ্গেও আমেরিকার চূড়ান্ত অমানবিক আচরণ আমরা দেখেছি। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তাই আজকের দিনটি মানব সভ্যতার কল্যাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর প্রতিটি সুস্থ চিন্তা সম্পন্ন মানুষ এটাই চান যে বন্ধ হোক মাদকদ্রব্যের চোরাচালান। বন্ধ হোক মাদকের অপব্যবহার করা। আইন করে ধরা হোক চোরাচালানকারীদের। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করুক সরকার গুলি এবং সেইসঙ্গে পৃথিবীর প্রত্যেকটা কোণের প্রতিটা মানুষ যেন শান্তিতে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে পারে। কোন রকম নির্যাতনের শিকার না হতে হয় তাদের।

15