পরিবেশ : বন ও বন্যপ্রাণ প্রকৃতির অমূল্য দান

মধূসুদন দাস

জুন, ২৫,২০২০: বনভূমি ধ্বংসের প্রতিক্রিয়ায় প্রাণী জগতের উপর কী প্রভাব পড়ছে আসুন তা একটু বোঝার চেষ্টা করি ।

বিষয়টি নিয়ে এক কথায় বলতে গেলে বিশ্ব উষ্ণায়ন, বাতাসে ধূলিকণার বৃদ্ধি, নতুন নতুন প্রাণঘাতী রোগের জন্মের সাথে সাথে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন যা মানবজাতির জন্য ভয়ঙ্কর ।
পৃথিবীতে থাকা প্রতিটি প্রাণীরই বেঁচে থাকা প্রাকৃতিক নিয়মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এটা ভুলে গেলে চলবে না যে পৃথিবীতে থাকা প্রতিটি প্রাণী খাদ্য-খাদক হিসেবে একে অপরের উপর নির্ভরশীল । আরো ভালো করে বলা চলে, পৃথিবীতে প্রাকৃতিক নিয়মে বিবর্তনের পথে যে জীব বৈচিত্রের পিরামিড তৈরি হয়েছে তার চূড়ায় রয়েছে মানব জাতি । আর যদি নিচের স্তরের প্রাণী গুলির বিলুপ্তিকরন ঘটে তাহলে এই পিরামিড ভেঙে পড়বে । এবং যেহেতু এই পিরামিডের সর্বোচ্চ শিখরে রয়েছে মানবজাতি ফলে তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এটাই স্বাভাবিক । আর এর একটা বিরাট বড় প্রভাব পড়বে অন্যান্য প্রাণী গুলির উপর । এর ফলে যে সাইকেলিং চলছে সেটা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে । এতে গোটা প্রাণী জগতের উপর পড়বে একটা বিরাট বড় ধ্বংসাত্মক প্রভাব ।
সেই অর্থে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব অনেক অনেক বেশি ।

“দ্য স্টেট অফ ইন্ডিয়ান বার্ডস” ২০২০ শীর্ষক রিপোর্ট অনুযায়ী গত 25 বছরে দেশের সর্বাধিক দেখতে পাওয়া পাখিদের সংখ্যা বার্ষিক ৮০% হারে কমেছে । গবেষকদের মতে এটি চরম বিপর্যয় । মানবজাতির বেঁচে থাকা এবং তার চেয়ে বেশি মানবজাতির শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকার পেছনে রয়েছে বন্যপ্রাণীর একটা বিরাট বড় ভূমিকা ‌। আমরা জানি মানব শরীরের বিভিন্ন মারন রোগের চিকিৎসার জন্য বহু ক্ষেত্রে সরাসরি বন্যপ্রাণীদের সাথে সম্পর্ক রয়েছে । এমন অনেক ঔষধ রয়েছে যা আমরা বন্য প্রাণীর শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে পেয়ে থাকি । সুতরাং যদি সেই সব প্রাণী গুলোর বিলুপ্তীকরন ঘটে তাহলে তার একটা বিরাট বড় প্রভাব মানবজাতির উপর পড়বে তা বলাই বাহুল্য। এবার সেই সকল প্রাণী গুলির বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য ও খাদকের সম্পর্কে আরও অনেক প্রাণীর বেঁচে থাকা দরকার । যেমন সাপের বিষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ তৈরি হয় । তাই সাপকে বাঁচাতে গেলে সেই সকল প্রাণীকে বাঁচাতে হবে যেগুলো খেয়ে সে বেঁচে থাকে । যেমন, ইদুঁর, ব্যাঙ, টিকটিকি, বিভিন্ন পাখি ইত্যাদি । আবার এই ব্যাঙ, টিকটিকি, ইঁদুর এদেরকে বাঁচাতে গেলে সেই সমস্ত প্রাণীগুলোকে বাঁচাতে হবে যেগুলোকে খেয়ে বেঁচে থাকে এরা। সুতরাং প্রাকৃতিক ভাবে বিবর্তনের পথে চলতে থাকা সকল প্রাণীর বেঁচে থাকা ও তাদের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । নয়তো খরা, বন্যা, দুর্ভিক্ষ, মহামারীর মতো রোগের জন্ম নেবে । অকারন জীব হিংসা মানব জাতির ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে ।

উদাহরণ স্বরূপ বলা ভালো, চিনে চড়ুই পাখির বার-বাড়ন্তের জন্য চিন সরকার ১৯৫৮ সালে চড়ুই পাখি নিধনের সিদ্ধান্ত নেয় । কিন্ত একটা বড় অংশের চড়ুই পাখি হত্যার ফলে পরে তিন বছর ধরে চিনে নেমে আসে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। প্রাণ হারায় প্রায় ৩ কোটি মানুষ । কারণ চড়ুই পাখি শস্যদানা খাওয়ার সাথে সাথে সেই সকল পোকামাকড়ও খেয়ে ধ্বংস করে যারা ফসল নষ্ট করে । চড়ুই পাখি কমে যাওয়ার ফলে সেই সকল পোকামাকড় গুলি অতি মাত্রায় বেড়ে যায় ফলে নষ্ট হয় ফসল। যার ফলে হয় দুর্ভিক্ষ।

—————————-চলবে

305