পাঠকের কলমে: বনবাণী ঘোষ

শক্ত প্রাচীর


লক ডাউন তোমার শক্ত প্রাচীর আমি ভেদ করব ই।
আমার খেটে খাওয়া দুহাতে তুমি হাত করা পরিয়েছ।
আমার জল কাদায় ভেজা পায়ে তুমি শিকল বেধে দিয়েছ।
আমার ধৌর্যের বাঁধ তুমি প্রতি মূহুর্তে একটু একটু করে ভেঙে দিচ্ছ ।
কেড়ে নিয়েছো আমার মুখের গ্রাস,
কেড়েছো রাতের ঘুম ।
ক্ষভের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে গোটা পরিবার ।
আমি অপরাধি!
এই যে আমি খেয়ে নিয়েছি অসুস্থ মায়ের পথ্য ।
খেয়ে নিয়েছি বাবার প্রেসারের ট্যাবলেট ।
ছোট্ট ছেলের দুধের কৌটা আমি জলে গুলিয়ে খেয়ে ফেলেছি।
আমি অসহায় এক সন্তান,
অসহায় এক স্বামী,
অসহায় এক বাবা।
নিজের পরিবার ক্রমাগত কে অভুক্ত রেখে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিচ্ছি ।
দাতার দান আসছে কিন্তু ওই টুকু তে কি সংসার চলে!
দাতার দানের আমি ভুল ধরি না,
কিন্তু খিদের পেটের যে খোরাক বেশি,সে খবর কে রাখে?
আমিও যে রক্ত মাংসের মানুষ ।
খিদের জ্বালা যে আমার পেটে ও ।
লক ডাউন,আর দেরি নয় তোমার শক্ত প্রাচীর আমি ভাঙবো ই।
ছুটে যাবো কর্ম ক্ষেত্রে,
কিন্তু কাজ কে দেবে সব ই তো বন্ধ ।
একজন শ্রমিকের ও যে দেখা নেই।
সবাই নাকি বাঁচার তাগিদে বন্দি রয়েছে নিজের ঘরে
ওদের পেটে ও যে ক্ষিদের জ্বালা আছে,
শুধু এই মহামারির কবল থেকে বাঁচার তাগিদে আটকে ঘরে।
ওরা যদি পারে!আমি ও পারব দাঁতে দাঁত চেপে লক ডাউন মানতে।
সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে,পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থেকে নিজের পরিবার,সমাজ,নিজের দেশ কে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ।
লক ডাউন আমিও পালন করবো তোমায়।
লক ডাউন আমিও পালন করবো।

204