পেট্রোপন্যের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে রাস্তায় নামছে বামেরা।

করোনা সঙ্কটের মধ্যেই লাগাতার ১৭ দিন বাড়লো জ্বালানি গ‍্যাসের দাম। তেল বিপণন সংস্থাগুলির দামের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, মঙ্গলবার রাজধানীতে পেট্রোলের দাম বেড়েছে লিটার প্রতি ২০ পয়সা এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে লিটার প্রতি ৫৫ পয়সা। বিগত ১৭ দিনে পেট্রোলের দাম বেড়েছে মোট ৮.৫০ টাকা প্রতি লিটার এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে ৯.৭৭ টাকা প্রতি লিটার। এই মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বেশ কয়েকটি দাবি নিয়ে দেশব্যাপী আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বামেরা।
কেন্দ্র সরকারের প্রবল সমালোচনা করলো বাম দলগুলো। তাদের অভিযোগ, করোনা মহামারী ও তার জেরে গত তিন মাস ধরে দেশব্যাপী জারি করা অপরিকল্পিত লকডাউনের কারণে দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা ইতিমধ্যেই ধ্বংসের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে মোদী সরকার। এর ওপর লাগাতার পেট্রো পণ‍্যের মূল্যবৃদ্ধি তাদের জীবনকে আরও অসহায় করে তুলছে।

সিপিআইএম, সিপিআই, সিপিআইএমএল, আরএসপি ও ফরওয়ার্ড ব্লক – এই পাঁচটি দলের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “করোনা মহামারী এবং তার জেরে গোটা দেশে অপরিকল্পিত, একতরফা লকডাউন ঘোষণা করে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ধ্বংসের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে মোদী সরকার। এর ওপর গত ১৫ দিন ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়ে চলেছে সরকার। এটি কোটি কোটি মানুষের জীবনকে পঙ্গু করে তুলছে।”

বাম দলগুলোর অভিযোগ, বর্তমানে বিশ্বের সমস্ত দেশের মধ ভারতে পেট্রো পণ‍্যের ওপর এক্সাইজ ডিউটি সবথেকে বেশি। তেল বিপণন সংস্থাগুলি জনগণের টাকা থেকে লাভ করছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার তাদের থেকে প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব আদায় করছে। বামেদের দাবি, কেন্দ্র সরকার যেন অবিলম্বে এই পণ‍্যগুলোর ওপর এক্সাইজ ডিউটি কমিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেয়।

মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে বেশ কিছু দাবি নিয়ে এবার দেশজুড়ে রাস্তায় নামছে বামেরা। দাবিগুলো হলো:

১) অবিলম্বে পেট্রো পণ‍্যগুলির ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করে এগুলোর দাম কমানো হোক।

২) আয়কর দেয়না এমন পরিবারগুলোকে আগামী ছ’মাস প্রতি মাসে ৭,৫০০ টাকা করে দেওয়া হোক।

৩) প্রত‍্যেক দরিদ্রকে ১০ কেজি করে খাদ‍্যশস‍্য দেওয়া হোক

163