https://kulikinfoline.com/vid-20200622-wa0015-mp4/

দুবছরেও প্রয়াত প্রিসাইডিং অফিসার রাজকুমার রায়ের মৃত্যুর রিপোর্ট উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠাতে না পারায় নির্বাচন কমিশন ঘোষিত 20 লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এখনও পায় নি রাজকুমার বাবুর পরিবার। এ বিষয়ে রাজকুমার হত্যার বিচার চাই মঞ্চের তরফে তীব্র ক্ষোভ ব্যাক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে আজ জেলা শাসকের দফতরে এডিএম. জেনারেল রীনা যোশীর কাছে আরো একবার ডেপুটেশন দিল মঞ্চ। আজকের ডেপুটেশনে মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য, প্রিয় রঞ্জন পাল, অভিজিৎ কুন্ডু, শর্মিষ্ঠা ঘোষ, শাহীদুর রহমান সহ আরো বেশ কিছু শিক্ষক – শিক্ষিকা উপস্থিত ছিলেন।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটের ডিউটি করতে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হন ইটাহারের বানবোলের একটি বুথের প্রিসাইডিং অফিসার স্কুল শিক্ষক রাজকুমার রায়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় 24 ঘন্টা পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয় রায়গঞ্জে রেললাইনের ধারে। প্রতিবাদে রায়গঞ্জ সহ সমগ্র রাজ্য তোলপাড় হয়। রায়গঞ্জে ঐতিহাসিক প্রতিবাদে সামিল হন শিক্ষকেরা। প্রায় 12 ঘন্টা অবরুদ্ধ হয়ে ছিল জাতীয় সড়ক। ঘটনায় মূখ্যমন্ত্রী কে পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়। অথচ সেই রাজকুমার রায়ের মৃত্যুর রিপোর্ট দুই বছর সময়েও রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরের পাঠাতে পারে নি উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। এই রাজকুমার হত্যার বিচার চাই মঞ্চ লাগাতার জেলা শাসকের কাছে দরবার করলে বিভিন্ন বার বিভিন্ন কারণ দেখানো হয়। জেলা শাসকের দফতর থেকে দ্রুত রিপোর্ট পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় অথচ তা রক্ষা করা হয় না। জেলা প্রশাসনের এই আচরণে তীব্র ক্ষোভ ব্যাক্ত করে জেলা প্রশাসনের ভুমিকাকে অসংবেদনশীল ও দ্বায়ীত্ব জ্ঞানহীন বলে ক্ষোভ ব্যাক্ত করে রাজকুমার হত্যার বিচার চাই মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য। তিনি বলেন বিগত দুই বছর ধরে বার ভিন্ন ভিন্ন কারণে রিপোর্ট পাঠানো যায় নি বলা হয় জেলা প্রশাসনের তরফে। প্রতিবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় অতিদ্রুত রিপোর্ট পাঠানো হবে। আজ এ ব্যাপারে এডিএম যোশীর কাছে ডেপুটেশন দিতে গেলে তিনি জানান যে সিআইডি রিপোর্ট হাতে না পাওয়ায় রিপোর্ট পাঠানো হয় নি। রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন শীঘ্রই চাওয়া হবে। অথচ আজ থেকে একবছরেরও বেশি সময় আগে হাইকোর্টে রিপোর্ট পেশ করেছে সিআইডি এবং তার কপি মঞ্চের কাছেই রয়েছে। অথচ জেলা শাসকের দফতরে নেই? এর চেয়ে হাস্যকর যুক্তি আর কি হয়। জেলা শাসকের দফতরের ভুমিকা থেকে স্পষ্ট যে প্রয়াত রাজকুমার বাবুর পরিবার তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পাক এমন কোনো সদিচ্ছা প্রশাসনের নেই। অথচ বাড়ি তৈরির ঋণ শোধ করতে না পারায় অর্পিতা দেবী তার সন্তানদের নিয়ে পথে বসার উপক্রম।

মঞ্চের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতে পারে জানতে চাইলে ভাস্কর বাবু বলেন, “আমরা অতিদ্রূত সিআইডি রিপোর্টের কপি যা হাইকোর্টে পেশ করা হয়েছে তা জেলা শাসকের দফতরে জমা করে দেব তারপরেও রিপোর্ট না গেলে একই সাথে আমরা শিক্ষক এবং অন্য ভোট কর্মীরা আন্দোলনের পথে নামবো। পাশাপাশি আইনি রাস্তায় ও আমরা যাব। এ বিষয়ে আমরা আগে থেকেই প্রখ্যাত আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য মহাশয়ের সাথে পরামর্শ করছি। তিনি তার তরফ থেকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। “

43