আত্মনির্ভর ভারত গড়ার ডাক দিয়ে নিলাম হচ্ছে দেশের ৪১ কয়লা খনি

১৯/৬/২০২০,ওয়েবডেস্কঃকর্মসূচি ঘোষিতই ছিল। সিদ্ধান্তও গৃহীত ছিল। অপেক্ষা ছিল শুধু ঘোষণার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেই ঘোষণার সাথে সাথেই কাজ শুরু হলো দেশের ৪১টি কয়লা খনি বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার কাজ। এতদিন পর্যন্ত এই কয়লা খনিগুলিতে কয়লা উত্তোলনের কাজ করতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির।প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ঘোষণার পর তা বদলে গেলো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর ভাই মোদী বলেছেন,”এই তৎপরতার ফলে অনেকেই কাজ পাবেন। কয়লা খনির বাণিজ্যিকীকরণের ফলে গরিবরা উপকৃত হবেন। খনি এলাকায় পরিবেশ রক্ষার ব্যাপারেও তৎপরতা নেওয়া হবে। দূষণ কমাতে নয়া প্রযুক্তির মেশিনের কথা ভাবা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন দেশের আত্মনির্ভরতার জন্য দেশের কয়লাখনি গুলির বেসরকারিকরণ বা নিলাম অত্যন্ত জরুরী। সরকার এই ক্ষেত্রগুলিতে আর নিজের অধিকার রাখবেনা। বেসরকারীকরণ এর ফলেই উপকৃত হবে মানুষ এবং দেশের অর্থনীতি। উপকৃত হবেন গরিব আদিবাসি মানুষ ।

মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ঢালাও বিলগ্নিকরণ এর পথে হেঁটেছে। মোদি সরকারের প্রথম পর্যায়ে বেসরকারিকরনের গতি কিছুটা শ্লথ হলেও ২০১৯ সালে দ্বিতীয় পর্যায়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।

করোনা এবং লকডাউনের ফলে দেশের অর্থনীতি ডুবন্ত। যদিও তার আগেও অর্থনীতির অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। ২০১৬ সালের ৮ই নভেম্বর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং কালো ধন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মোদি ঘোষণা করেছিলেন নোটবন্দি। কিন্তু নোটবন্দির ফলে ফিরে আসেনি কালোটাকা। কারুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি ১৫ লাখ করে টাকা।যায়নি ভ্রষ্টাচার। উন্নত হয়নি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। তার পরবর্তীকালেও পুনরায় বিলগ্নীকরণ এর দরজা খুলে দেন কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। তারা বারংবার বেসরকারিকরণের পথে হেঁটে দেশের আত্মনির্ভরতার জন্য দেশেরই সম্পদ বিক্রি করাকেই একমাত্র পন্থা বলে মেনে নিয়েছেন। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে ক্ষমতায় আসায় বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবগুলো গৃহিত হয় সেগুলো স্বাভাবিকভাবেই আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে আইনে পরিণত হয়ে যায়।

তবে এই বিষয় নিয়ে বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস এবং বামপন্থী দলগুলো। বিরোধী দল গুলো জানিয়েছে এই বিলগ্নীকরণ শুধুমাত্র দেশের অর্থনীতিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। বাড়বে বেকারত্ব ও দারিদ্র। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি সরকার কোনদিনই কর্ণপাত করেননি বিরোধীদের কথায়। ঘোষিত কর্মসূচি হিসাবেই একের পর এক দেশের লাভজনক সংস্থা বেসরকারি হাতে তুলে দিয়ে চলেছেন। এতে দেশ কতটা আত্মনির্ভর হলো তা অবশ্য বলবে সময়।

176