তবে কি আশার আলো দেখা গেলো! এবার কি রুখে দেওয়া যাবে করোনা!

করোনাভাইরাস চিরতরে রুখে দেওয়ার মতো ওষুধের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক। সস্তা এবং সহজলভ্য ডেক্সামেথাসোন নামের এই ওষুধটি করোনাভাইরাসে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জীবন বাঁচাতে ইতিমধ্যেই সাহায্য করেছে। ওই গবেষকরা জানাচ্ছেন, আগামী দিনে COVID-19 এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে কম ডোজের এই স্টেরয়েড চিকিৎসা সারা বিশ্বকে দিশা দেখাবে । জীবনরক্ষাকারী এই ওষুধ ভেন্টিলেশনে থাকা করোনা রোগীদের মৃত্যুহার এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দিতে পারে। আবার অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছেন যে করোনা রোগীরা, তাঁদের মৃত্যুহার এক-পঞ্চমাংশ অবধি কমিয়ে দিতে পারে এই ডেক্সামেথাসোন।

তবে হু-র শীর্ষ বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন জানালেন, র‌্যান্ডম পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সত্যিই ভাল কাজ করছে ডেক্সামেথাসন, কিন্তু আরও পরীক্ষা বাকি। এখনই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যাবে না। যেসব রোগীর শ্বাসকষ্টের সমস্যা গুরুতর, শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি লক্ষিত হচ্ছে অর্থাৎ ভেন্টেলেশন দরকার, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ ভাল কাজ করছে বটে, কিন্তু স্বামীনাথন বারবার সতর্ক করছেন, এটি আশঙ্কাজনক রোগীদের ক্ষেত্রেই ভাল কার্যকর। হু এই ওষুধ প্রয়োগের ফলাফল সম্পর্কে নজর রাখছে। ওষুধ ব্যবহার করে রোগীরা কীভাবে সাড়া দিচ্ছেন, তার উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা পদ্ধতির রূপরেখা তৈরি হবে।

তিনি আরও জানান, আরও অন্তত ১০টি পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সফল হলেই এই ওষুধের কার্ষকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তারপর সব পরীক্ষার ফল একত্রিত করা হবে।
স্বামীনাথন আরও জানান, ডেক্সামেথাসন কিন্তু কম সঙ্কটজনক রোগীদের জন্য নয়। যাঁদের ফুসফুস তেমন ক্ষতিগ্রস্ত নয়, তাঁদের ডেক্সামেথাসন নয়। তাতে পরিস্থিতি আরও খারাপই হতে পারে। কোনওভাবেই ডেক্সামেথাসন ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়। হাসপাতালে থাকা রোগীদেরই, চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকাকালীনই এই ওষুধ খাওয়া যাবে।
স্বামীনাথনের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন ভারতের অনেক চিকিৎসকও।

13