দেশজোড়া করোনা আক্রমন, লকডাউন,বেকারত্ব,
ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির সাথে জুঝছে ভারত। তারই মধ্যে গত ১৫ই জুন লাদাখে ভারতীয় এবং চিনা সৈন্যদের মধ্যে সম্মুখসমরে হতাহত হয়েছেন ভারতীয় পক্ষের ২০জন জওয়ান। যার মধ্যে সন্তোষবাবু নামে বিহারের এক অফিসারও রয়েছেন। এই ঘটনায় শুধু দেশে নয় উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিদেশেও। রাষ্ট্রসঙ্ঘের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং ঘটনার ওপর নজর রেখে উভয় দেশকে শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভারত-চিন উভয় দেশকে।

এবার ইউএস নিউজ নামের একটি মার্কিন প্রকাশনা সংস্থার পক্ষ থেকে তথ্য প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে চিনের অন্তত ৩৫ জন সৈন্য নিহত হয়েছেন এই হাতাহাতিতে।আর সেই কারণেই চিন নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করতে চাইছি না। তাই কোন তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছেনা চিনা তরফ থেকে। মার্কিন সংবাদ সংস্থাটি আরো জানিয়েছে যে এই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চিনা তরফে এবং সে সেকারণেই এ ঘটনায় চিন নিজেদের অপমানিত বোধ করে তথ্য প্রকাশ করছে না। চিন মনে করে সেনাদের মৃত্যু শত্রুকে উৎসাহিত করবে আর তাই খবর চেপে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংস্থাটি।

দীর্ঘদিন ধরেই মাঝেমাঝেই ভারতীয় এবং চিনা সৈনিকদের মধ্যে হাতাহাতি এবং সম্মুখ সমরের কথা সামনে আসছিলো।উল্লেখ্য, ১৫ই জুন সকালে সীমান্তে টহল দেওয়ার সময় ভারতীয় ভূখণ্ডের ১৪পয়েন্টে ভারতীয় সেনারা একটি চিনা ছাউনি দেখতে পান। ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে তৈরি করা চিনা ছাউনিটি দেখতে পাওয়ার পরেই ভারতীয় সৈন্যরা ছাউনিটি ভেঙে দেন। তারপরেই নাকি পাহাড়ের উপর থেকে পাথর ছুঁড়তে থাকে চিনা সৈন্যরা এবং হাতে ব্যাটন নিয়ে নেমে আসে। উভয়ের মধ্যে গোলাগুলি না চললেও লাঠি, ছুড়ি দিয়ে একে অপরকে আঘাত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চিনা সৈন্যরা কাঁটাতার জড়ানো এক ধরনের ব্যাটন এক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিল বলেও সামনে এসেছে তথ্য । উভয় পক্ষেরই হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। বেশিরভাগ সৈন্য মারা গেছেন খাদে পড়ে গিয়ে।

বারংবার চিনা সৈন্যদের সঙ্গে হাতাহাতি হলেও এই ধরনের ঘটনা বহুকাল পরে ঘটলো। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বন্ধু দেশ হিসেবেই পরিচিত চিন। কিছুদিন পূর্বেই ভারতীয় এবং চীনা সৈন্যদের উচ্চপদস্থ অফিসারদের মধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের মিটিং হয় যাতে উভয়পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু তারপরেও উভয়পক্ষের সৈন্যরা এই ধরনের মারামারিতে কিভাবে জড়িয়ে পড়ল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের বিরোধী দলগুলি। সিপিআইএম ,কংগ্রেসসহ সমস্ত বিরোধী দল দাবি করেছে যে অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে গোটা পরিস্থিতি বিবৃতি দিয়ে জানানো হোক। এখনো পর্যন্ত বিদেশ দপ্তর বা পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে কিভাবে এই গণ্ডগোলের সূচনা হলো তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। যদিও ভারতীয় সৈন্যদের হতাহতের সংখ্যা মঙ্গলবারই জানিয়ে দিয়েছিলো পররাষ্ট্র দপ্তর।উভয় দেশের মধ্যে শান্তি অবিলম্বে শান্তি স্থাপন করাই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করছে রাষ্ট্রসংঘ।

উল্লেখ্য কিছুদিন থেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটছে ভারতের।।কিছুদিন আগে নেপালের মানচিত্র ভারতের কিছু অংশকে নিজেদের বলে দাবি করা হয়েছে। চীনের সঙ্গে শুরু হয়েছে বৈরিতা। পাকিস্তানের সঙ্গে শত্রুতা তো লেগেই রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইতিপূর্বে এইভাবে বৈরিতার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়নি ভারতকে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২রা জুন প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি ভারত ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ভারত ও চিন উভয় দেশই এই প্রস্তাব মেনে নেয়নি ফলে ট্রাম্পের ইচ্ছা পূরণ হয়নি। তবে ভারত এবং চিন উভয় দেশই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে এবং দ্রুত শান্তি স্থাপন করবে বলেই আশা করছেন বিশ্বের শান্তকামী সকল দেশ।মহামারী বিধ্বস্ত মানবজাতি যাতে নিজেদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়ে না পরে সেটি এখন একমাত্র কাম্য।

34