দেশে করোনা ভাইরাসের আক্রমণ কমার কোন লক্ষন নেই। লক্ষাধিক আক্রান্ত শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রে। সারাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা কত লক্ষে পৌঁছাবে তা এখন স্ট্যাটিস্টিশিয়ানদেরও জানা নেই। কিভাবে নিয়ন্ত্রণ আসবে ভাইরাস তাও জানেননা বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে দেশ থেকে লকডাউন তুলে আনলক চালু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মানুষ বাইরে বেরোচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করছেন। ঘোরাফেরা করছেন। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছেন। ফলে সামাজিক সংক্রমণের ভয় থেকেই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ু ও মহারাষ্ট্রের মত রাজ্যগুলিতে ভয়ঙ্কর ভাবে বাড়ছে করোনার প্রকোপ। আর এই কারণে তামিলনাড়ু সরকার পুনরায় সর্বাধিক সীমাবদ্ধ লকডাউন চালু করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল। আগামী ১৯ শে জুন থেকে এই পর্যায়ের লকডাউন চালু হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এডাপাডি কে পলানিস্বামী। মুখ্যমন্ত্রী সোমবার স্পষ্টভাবেই ‘সর্বাধিক সীমাবদ্ধ লকডাউন’-এর কথা বলেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বৃহত্তর চেন্নাই,চেন্নাই, চেঙ্গেলপেট, কাঞ্চিপুরম তিরুভাল্লুরের মত জেলাগুলিতে ১৯ শে জুন থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত জারি থাকবে এই পর্বের লকডাউন। রবিবার দিন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে রাজ্য । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি চালু থাকবে। তার বাইরে নিষিদ্ধ থাকবে সমস্ত পরিষেবা। মুদির দোকান, শাকসবজি ও ফলের দোকান এবং পেট্রোল পাম্পের মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি খোলা থাকবে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত । চায়ের দোকানসহ বহু মানুষের সমাগম হয় এমন সব জায়গা বন্ধ থাকবে।১২ দিনের লকডাউনের মধ্যে ২১শে ও ২৮ জুন – দুটি রবিবারে শুধু দুধ বিতরণ, হাসপাতাল এবং জরুরী স্বাস্থ্য পরিসেবা খোলা থাকবে।
সোমবার পাওয়া তথ্য অনুসারে তামিলনাড়ুর মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৪,৬৬১ হাজারে পৌঁছেছে।। রাজ্যের মোট আক্রান্তের মধ্যে শুধুমাত্র চেন্নাইয়েই আক্রান্ত রাজ্যের মোট আক্রান্তের ৭০ শতাংশ। একটি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করেছে তামিলনাড়ু সরকার।

সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্তই পার্সেল এবং ডেলিভারি পরিষেবাগুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোকে। অবশ্য খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে সাধারন খাদ্য সরবরাহ পরিষেবা । তবে বিতরণকর্মীদের আইকার্ড সঙ্গে রাখতে হবে। ট্যাক্সি, অটো, ব্যক্তিগত যানবাহন – কিছুই চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

ভিন রাজ্য থেকে তামিলনাড়ুতে আসা বিমান এবং ট্রেনগুলোকে ঢুকতে দেওয়া হবে বলে জানিয়ছে তামিলনাড়ু সরকার।

15