রাজ্য জুড়ে তিন মাস ধরে ৬০০ কমিউনিটি কিচেন! সরকারে না থেকেও দরকারে রয়েছে সিপিএম!

ওয়েবডেস্ক: লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে লকডাউনে বিপর্যস্ত অসহায়, নিরন্ন মানুষের পেট ভরাতে দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে প্রায় ৬০০ এর বেশি কমিউনিটি কিচেন চালাচ্ছে বামেরা। এমনকি এরাজ্যে লকডাউন শিথিল হওয়ার পর ৬ টি জায়গায় বিনামূল্যে টোটো ও অটো পরিষেবা শুরু করেছে বামেরা, এছাড়াও রাজ্যের ৩ জায়গায় চলছে  শ্রমজীবী কিচেন। কয়েকশো বিনামূল্যে সবজি বাজার।  বামেদের ৬০০ টি কমিউনিটি কিচেনে প্রতিদিন প্রায় ১০০০ থেকে ১৫০০ জন মানুষ খাবার খান, এই হিসেব অনুযায়ী প্রতিদিন বামেদের কমিউনিটি কিচেন সাত লাখেরও বেশি মানুষের পেট ভরায়।


করোনার কোপ সামলাতে না সামলাতে রাজ্যে ভয়াবহ আমফান বা উমপুনে ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মানুষ। তাদের পাশেও দাঁড়িয়েছে বামেরা। বিশেষ করে বাম ছাত্র যুব সংগঠনের রেড ভলেন্টিয়ারদের ভুমিকা অসাধারণ। রাজ্য জুড়ে সর্বত্র কমিউনিটি কিচেন, বিনামূল্যে সবজি ও অন্যান্য সামগ্রীর বাজার তৈরি করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনন্য নজির তৈরি করেছে। খাবার ও খাদ্য সামগ্রীর পাশাপাশি ,বই-খাতা, মাস্ক, স্যানিটাইজার এমনকি স্যানিটারি প্যাড পর্যন্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে মানুষের দুর্দিনে। অবশ্য বামেদের এই কাজ পছন্দ হচ্ছে না শাসকদলের। কেন্দ্র এবং রাজ্যের শাসকদলের নেতারা প্রশ্ন তুলছেন বামেরা এত অর্থ খরচ করে কিভাবে দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে প্রতিদিন সাত লাখেরও বেশি মানুষের পেট ভরাচ্ছে? বামেদের কর্মসূচি এবং কমিউনিটি কিচেন নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তবে এই প্রশ্নের উত্তর কেন্দ্র এবং রাজ্যের শাসকদল উভয়ের কাছে রয়েছে,  ফেসবুকের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী গত ইংরেজি মে-২০ মাসে শুধুমাত্র ফেসবুকেই রাজনৈতিক প্রচারে ৫০ লাখ টাকার বেশি খরচ করেছে দুই শাসকদল ।

শুধুমাত্র ফেসবুকেই ৫০ লাখ টাকা, অনান্য সোস্যাল সাইটের তথ্য তুলে ধরলে হয়তো কোটি টাকার বেশি ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের খরচ দাঁড়াবে তৃণমূল এবং বিজেপির। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই শাসক দল যেখানে সোস্যাল মিডিয়ার বিজ্ঞাপনে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে সেই পরিস্থিতিতে বামেরা কৌটো নাড়িয়ে অর্থাৎ জনসাধারণের থেকে অর্থ সংগ্রহ করে প্রতিদিন সাত লাখ মানুষের পেট ভরাচ্ছে।

মাঝেমধ্যে বাম বিরোধী দল গুলি বামেদের ‘কৌটো নাড়ানো’ পার্টি বলে ডাকে, বর্তমানে সেই কৌটো নাড়ানো দলের কর্মীরা মানুষের বিপদের দিনে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাঁচার লড়াই লড়ে যাচ্ছে। সরকারের দায়িত্ব তাঁরাই পালন করে চলেছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। কিন্তু শাসকদলের তথাকথিত নেতারা বামেদের কাজে সাহায্য করা তো দূর বামেদের কাজ কিভাবে থামানো যায় সেই ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত। বামেদের সাহায্য না করলেও বামেদের কাজের ছবি চুরি করে নিজেদের সোস্যাল মিডিয়া একাউন্টে পোস্ট করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে ভুলছেন না শাসকদলের নেতারা।

592