দেশের করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ হয়ে উঠছে জটিল থেকে জটিলতর। এই পরিস্থিতিতে আনলক-2 চলবে নাকি আবার লকডাউনের পথেই হাঁটতে হবে সেটা শনিবার অর্থাৎ গতকাল আরো একবার খতিয়ে দেখতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশ্বস্ত সূত্র মাধ্যমে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে মন্ত্রিসভার প্রবীণ সদস্যদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে অন্যদের সাথে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সচিব। এ ছাড়া ছিলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও। দিল্লি-সহ প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে এই বৈঠকে সবিস্তার আলোচনা হয়।

প্রসঙ্গত কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান অনুসারে, শনিবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১১ হাজার ৪৫৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যার ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ৮ হাজার ৯৯৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে ভারত এই মুহূর্তে বিশ্বে চার নম্বরে আছে। সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে সরকারি নীতি আয়োগের এক শীর্ষ কর্তা একটি প্রেজেন্টেশন রাখেন। যেখানে আগামী দিনে দেশে মধ্যম গতিতে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
মাত্র পাঁচটি রাজ্যে দেশের মোট করোনা আক্রান্তের দুই-তৃতীয়াংশের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরেন নীতি আয়োগের অন্যতম সদস্য এবং মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানের আহ্বায়ক বিনোদ পল। এ ছাড়া এই সমস্ত রাজ্যের বড় শহরগুলিতে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন হু হু করে বৃদ্ধি নিয়েও তিনি বৈঠকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জানা গেছে বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত গোষ্ঠীর নানা সুপারিশ এদিন গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিটি শহর এবং জেলা হাসপাতালে কী কী পরিকাঠামোগত প্রয়োজন আছে তা সংশ্লিষ্ট রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গেও আলোচনার মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে পূরণ করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বর্ষাকাল আসন্ন। সে কথা মাথায় রেখেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের স্বাস্থ্য মন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরের পর্যায়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সাথেও করোনা পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী বলে জানা গেছে।

39