সাফুরার মুক্তির দাবিতে সোচ্চার আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশন

সাফুরা জারগার

সাফুরা জারগার কে জেলে বন্দি করে রাখা আন্তর্জাতিক আইন বিরোধী কাজ বলে মনে করছে আমেরিকান আইনজীবীরা।আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আইনজীবীরা এমনই মত প্রকাশ করেছেন।উল্লেখ্য যে, সিএএ-এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে জাফরাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল গর্ভবতী। গর্ভবতী অবস্থায় তাকে দীর্ঘদিন তিহার জেলে বন্দী রাখার ফলে তার করোনা সংক্রমণের আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশন সাফুরার পক্ষে দাঁড়ানোর সাফুরার বিরুদ্ধে ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আনা বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়যুক্ত থাকার অভিযোগও প্রশ্নের মুখে পড়ে যাচ্ছে।কারণ আমেরিকার এই আইনজীবীদের সংগঠন জানিয়েছে যে সুপ্রিম কোর্টে ভারত সরকার সাফুরার সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে জড়িত থাকার পক্ষে প্রমাণ সাব্যস্ত করতে পারে নি। ফলে প্রশ্নের মুখে পড়েছে ভারতের বিচার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অপরদিকে এই সংস্থা দাবি করেছে যে,ভারত আমেরিকার সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। সাফুরা কে গ্রেফতার এর ফলে লঙ্ঘিত হচ্ছে সেই চুক্তিগুলিও।কারণ বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ছাড়া দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পূর্বে কোন ব্যক্তিকে জেলে বন্দী করে রাখা যায় না।

দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গর্ভবতী সাফুরার মুক্তির ব্যাপারে আন্দোলন চলছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনসহ ভারতের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এবং সাধারণ মানুষ প্রত্যেকে গর্ভবতী সাফুরাকে জেলে বন্দী রাখার ঘটনার নিন্দা করেছে।

উল্লেখ্য ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দপ্তর এনআরসি বিরোধী যে আন্দোলন চলছিল শাহিনবাগসহ বিভিন্ন জায়গায় সেই আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদেরকে গ্রেফতারের কাজ করেছেন ।সারাদেশে যে মুহূর্তে করোনার জন্য লকডাউন চলছিল সেই সময় এদেরকে গ্রেফতার করা হয় এবং নানা জামিন অযোগ্য ধারায় তাদেরকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যেই সাফুরা যার অন্যতম। তিনি গর্ভবতী অবস্থায় তিহার জেলে বন্দি রয়েছেন। তার গ্রেফতারের এবং তিহার জেলে বন্দী করে রাখার ঘটনায় তীব্র ধিক্কার জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এবার সাফুরার গ্রেপ্তার কোনো প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে কিনা তাই এখন দেখার।

126