নদীর জল ধীরে হয়ে যাচ্ছে টকটকে লাল। জমে থাকা বিস্তীর্ণ সাদা বরফের চাদরের চারপাশে কে যেন লাল রঙের বর্ডার একে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বেশ কিছু ছবিতে দেখা যাচ্ছে রাশিয়ার আর্টিক সার্কেলের মধ্যে থাকা অম্বরনায়া নদীর জলের রঙ নীল থেকে পাল্টে একেবারে লাল হয়ে গিয়েছে। যেন রক্ত নদী বয়ে চলেছে। আর এই সব দৃশ্যে আতঙ্কিত হয়ে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
তবে এটা মোটেও কোনও প্রাকৃতিক বা অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা নয়। বরং দুর্ঘটনা। আসলে ওই অঞ্চলে একটি রুশ তেল সংস্থার একটি তেলের ট্যাঙ্ক ফেটে গিয়ে প্রায় ২০০০০ টন ডিজেল মিশে গিয়েছে ওই নদীর জলে। জানা গিয়েছে গত ২৯ মে সাইবেরিয়ার নরিল্স্ক শহররের কাছে একটি একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানী ট্যাঙ্ক ফেটে ওই ডিজেল ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিকেল এবং প্যালাডিয়াম উৎপাদক সংস্থা নরিলস্ক নিকেল সংস্থা ওই পাওয়ার প্ল্যান্টটি চালায়।

সবচেয়ে আশ্চর্যের ঘটনা, ২৯ মে ঘটনাটি ঘটলেও সংস্থার রুশ সরকার তা জানতে পারে ঘটনার দু’দিন পর। এই নিয়ে গত বুধবার এক ভিডিও কনফারেন্সে পুতিন সংস্থার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

রাশিয়ার ঐ প্রদেশের গভর্নর আলেকজান্ডার উস প্রেসিডেন্ট পুতিনকে জানিয়েছেন, এই খণিজ তেল ছড়িয়ে পড়ে ইতিমধ্য়েই ৩৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার জল দূষিত হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অম্বরনায়া নদীর জল টকটকে লাল হয়ে গিয়েছে। ভ্লাদিমির পুতিন জরুরি অবস্থা জারি করে এই দুর্ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরই ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের একজন ডিরেক্টরকে আটক করেছে রুশ পুলিশ।

নরিল্স্ক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অধিকর্তার দাবি এই দুর্ঘটনার কারণ বিশ্বউষ্ণায়ণ। তিনি জানিয়েছে যে ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি একটি দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা বরফভূমির উপর নির্মিত। কিন্তু জলবায়ু উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বরফ গলে যাচ্ছে। এই অবস্থায় ওই দিন জ্বালানী ট্যাঙ্ককে ধরে রাখা স্তম্ভগুলি ডুবে যায়, আর তাতেই ট্যাঙ্ক টি ভেঙে পড়েছে।

17