পাগলা জবু

ভাস্কর চৌধুরী

একটা পাগল দার্শনিক আর একজন মোড়ল ছাড়া কোনো গাঁ টেকে না।
কথাটা আমার না। লোকে বলে ও অনুভব করে।
আমাদের গাঁয়ে একজন পাগল আছে। আগে পাগলই জানতো লোকে। পরের কথা পরে বলি।
তার নাম জবু। জবুর ইহ সংসারে এক দাদি আর একটা ছাগল ছাড়া আর কেউ নেই।
দাদি খড়ের ভাঙা ঘরে একটা তেপায়া খাটিয়ায় ঘরে শুতো। চালায় এক কোনে থাকতো যুবক জবু আর আরেক কোনে থাকতো ছাগী। তার দুটো বাচ্চা ছিলো।

জবুর দাদীটা সারাদিন এ গাঁ সে গা ভিক্ষে করে। বিকেলে বাজার সদাই করে। তারপর রাতে বাড়ি এসে রান্না করে। জবুর কোনো কাজ নেই। ধ্যাঙা পাতলা গোছের জবু কাজ করতে পারে না। পা দুটো শিশুকালে পোলিও রোগে দুর্বল ছিলো। তার বাপ মা এতো গরিব যে, ভিটে বেচে দিয়ে জবুকে মায়ের কাছে রেখে অন্য কোথাও চলে যায়। ভরসা ছিলো, ভিক্ষা করতে গেলে এই ছেলে তার দাদির কাজে লাগবে। কিন্তু বালক কাল থেকে বাউন্ডেলে জবু গ্রাম ছেড়ে কোনো কাজে যেতে পারে নি। যুবক কালেও তার পায়ের বল ওই বাউন্ডেলে পাগল স্বভাবে রূপ নেয়। ফলে কাজ বাদে সে সব করতে পারে।
কাজ নেই বলতে এক্কেবারে নেই, তা নয়। গাঁয়ের দোকানদার চায়ের দোকানে এক কলস পানি এসব ফুট ফরমায়েশ খাটে। কেউ মুড়ি, কেউ একটা আলু পুরী আর কেউ একটা টোস্ট বিস্কিট দেয়। এভাবে দুপুর হলে জবু পুকুর ঘাটে বসে। ওখানে একটা চালা আছে। সে চালায় বসে না। আরেকটু সামনে একটা ঢিবির উপর বসে। ভাবে। গাঁয়ের বৌগুলো রান্না সেরে স্নান করে। সে মাঝে মাঝে তাকিয়ে দ্যাখে। মেয়েরা জবুর নিষ্পাপ চোরা দৃষ্টি খেয়াল করে বুকের কাপড় আলগা করে। বলে ওরে পাগল , জীবনের মতো দেখে লে রে। বিয়া তো হবে না। জবু তার লুঙ্গি আলগা করে বলে, যার যা থাকে দ্যাখ। এই বলে সে যখন অন্য পুরুষ না থাকে তখন অজান্তেই নুনু কচলায়। তাতে সেটি বেশ বড় ও শক্ত হয়।
এভাবে অজান্তেই সে সেটি নাড়ে ও এক স্বর্গীয় সুখ স্খলনে অনুভব করে।
এসব নারীরা সাদরে ভালোবাসে। বলে তুইও নাম জলে। জবু বলে, জল তো গেলো। নামবো কোনঠে?
কোনো কোনো নারী এসব ভেতরে ভেতরে অনুভব করে।
জবু একদিন দোকানে বসে চা খাচ্ছিলো,
জবুর দাদির সেই পাঠি ছাগলটা এসে জবুর আদুল শরীর চাটতে থাকে। জবুর সুড়সুরি লাগে। এমন করতে করতে ছাগী জবুর কাপড় সরিয়ে নুনুটাও চাটে। জবু বলে, এইঠে লয়। এইঠে লয়। বাড়িতে। রাইতে।
ছাগী কি বুঝে চলে যায়। লোকে বলে, যার কেউ নাই, তার তো একটা পাঠী আছে। হায়রে জীবন।
এসব জেনে কি আর হবে।
জবুর কথা কেউ তো শোনে না। জবু বলেছিলো একদিন, বুঝছো প্যাটের জ্বালা ভিক্ষায় যায়। চ্যাটের জ্বালা কে শুধায়?
দোকালদার বললো, তুই মিলিয়ে কবিতা করলি নাকি?
জবু বললো, বুঝি নাকি?
বলেই উঠে গেলো।
এ কথার ভ্যান্ত কি?
বুঝি নাকি?
মানে বুঝে নাকি বুঝে না। তো পরের দিন সকালে চায়ের দোকানে বসলে কেউ জিজ্ঞেস করে, কি বুঝিস বল দেখি।
জবু বলে, দ্যাখো, এই লুঙ্গির তোলে তোমার যা আছে আমারও তাই আছে। আল্লাহ কম করে কাউকে কি দ্যায়?
দোকানদার বলে এখন বুঝো।
কি বুঝবে মানুষ?
ফের আরেকদিন হন্তদন্ত হয়ে জবু বিকেলে দোকানে আসে। ছাগী খুঁজছে।
লোকে বলে বইস। গা চাটতে সে আসবে। জবু বলে, অভিমান করেছে। কোনঠে যে গেলো। লোকে বলে, আসবে। সকলের বাড়িতেই নিজের একটা ছাগী আছে। অভিমান করে। ফের রাইতে কাইত হয়।
জবু বলে, তাই বলে আমি ভাববো না বলছো?
এটাও আমার অধিকার। তোমরা মনে মনে গুমরাও। আমি ডাইরেক্ট কথা বলি।
আমার ছাগীর বাচ্চা কাঁদে। কে দুধ দিবে কও?
সত্যি তো।
বেশ কিছুদিন থেকে ওই নুনু কোচলানোর পর এক রাতে শুকুরের বউ এসে চুপি চুপি ডাকে।
বাঁশবাগানে যাবো ভয় লাগে। সাথে আয়। জবু তার সাথে গেলে ভাবের উদয় হয়। বলে বাতাস এতো সুন্দর গো। শুকুরের বউ তাকে আড়ালে টেনে বুক খুলে গায়ে চেপে ধরলে, আরাম ও সিরসির লাগে। সে হাতটা সেদিকে দিলে এদিকে শুকুরের বউ তার লুঙ্গি খুলে শুয়ে বলে, দ্যাখ। ব্যাস হয়ে যায়।
এভাবে ব্যাপারটা বাড়তে থাকে। গাঁয়ের অন্তত দশটা বউ পালা করে আসে। তাতে দু চার পয়সা সে পায়। যার সাথে যেদিন থেকে হয় , দুমাস পরেই তারা বলে, যা পাগলা হামার প্যাটে তোর বাচ্চা।
এতে জবু বিচলিত হয় না । বরং সামান্য আনন্দ বোধ করে সে। এ ভাবে সে গাঁয়ের মানুষের কাজে লাগে। মনে উদাসী ভাব বাড়ে।
কি করতে জনম হইলো, আর কি করতে করতে করতে জনম দিনু। এ এক আজব ব্যাপার। কিন্তু একটা ব্যাপার। তাজ্জব হয়ে সে চায়ের দোকানে পানি দিয়ে বসে বলে, নদীর পানি,কুয়ার পানি আর কলের পানির কি স্বাদ এক?গরম কালে পানির স্বাদ কি শীত কালে এক?
ল্যাও ঠ্যালা। এক তো নয়। কিন্তু এই জবুর সব কথার ভিতর আরো কথা থাকে। আসল কথাটা কি?
জবু বলে ভাবো।
রাতে আবদুলের বউ ডাক দিলে জবু তাকে বলে, তুই যতবার ডাক দিলি, স্বাদ ততোবার পাল্টায় ক্যানে?
ফের সব মাইয়ার স্বাদ সবদিন এক নয় ক্যানে?
আবদুলের বউ কাজের ফাঁকে গোঁ গোঁ করতে করতে বলে, আইজ জনমের মতো খাইয়া দ্যাখ হারামি। মাইয়া মানুষ আগুনের লাহান। আগুন জ্বালাইতে পারে। বুকে,দুঃখে সুখে সংসারে সবখানে। তুই পাগল। আরামে খা।
পরের কয়েকদিন জবু কোথাও বের হয় না। কারো বউ ডাকলে বলে, এ গাঁয়ে হামার এতো বাচ্চা হইলো, বাপ ডাক কেহ ডাকলো না। না ডাকলে আরো ম্যালা স্বাদ বাকি থাকলো রে। বাঁচি কোন সুখে? এরপর থেকে জবুর অসুখ।
তার এতগুলো বাচ্চা। আদর পেলো না তার।
এ ভাবনায় সে কাহিল হয়ে বিছানা নিলো।
একদিন দোকানদার দেখতে এসে জিজ্ঞেস করলো, জবু কি হইছে রে? ডাক্তারের কাছে চল। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জবু বললো
হামি কি পাইলে কি হয়তো কইতে পারো? আর কি পাইলাম না কইতে পারো ভাই?

17