গল্প কথা (পর্ব ৮)

বিপুল দাস

আট

পুরনো গল্প কিন্তু মরে না। বাঁক নেয়, তার ধারায় নতুন গল্পের জল এসে মিশতে থাকে। নদীর মত তালুক, মহাল, গঞ্জ, পরগণার ভেতর দিয়ে বইতে থাকে গল্পের নদী।

এবার আসল কথায় আসি। আসলে ব্যাপারটা কিন্তু অস্ত্বিত্ত্বের সংকট। সেই আদিম যুগ থেকেই সহস্র প্রতিকূলতাকে পার হয়ে বেঁচে থাকার তীব্র লড়াই ভেতরে ভেতরে আমাদের অবচেতনেই একটা ডিফেনস্‌ মেকানিজম্‌ তৈরি করে দেয়। সেই আদিম যুগে যা ছিল অতর্কিতে ভয়ংকর বন্যপশুর আক্রমণের ভয়, এখন তাই হয়েছে সামাজিক ভাবে দুর্বলের ওপর অধিক সবলের আক্রমণ। শুধুমাত্র সন্দেহের বশে পুলিশের অত্যাচার, রাষ্ট্রীয় পীড়ন। বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে তো কম সংগ্রাম করতে হয়নি। নিরক্ষরেখার উষ্ণতা, মেরু অঞ্চলের শৈত্য, ঘুম মাছির কামড়, খরা, বন্যা, ভূমিকম্প, মহামারীর মত দুর্যোগ। ছোট ছোট বিভিন্ন উপজাতিদের ভেতরে উর্বর জমি, পালিত পশু, উৎপাদিত ফসল, ভূখন্ডের সীমানা নিয়ে জাতিদাঙ্গা, বন্যপশুর আক্রমণ, গুপ্তঘাতকের ভয়। গুন্টার গ্রাসের ভাষণের এক জায়গায় এ জন্যই আমরা পেয়েছি যে, গল্পকারদের মুখে প্রথম দিকে খুন, দাঙ্গা, জেনোসাইডের গল্পগুলো প্রাধান্য পেত। বিভিন্ন উপজাতিদের ভেতরে তাদের পূর্বপুরুষদের বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধজয়ের গল্পগুলো পুরুষানুক্রমিক ভাবেই তারা বহন করে নিয়ে যেত।

বেঁচে থাকার ভেতরে এই যে একটা ভয় সব সময় কাজ করে, এই ভয়কে অতিক্রম করার জন্য আমাদের কল্পনায় আমরা একটা কাল্পনিক শক্তির ভরকেন্দ্র তৈরি করি। এই ভরকেন্দ্রের স্বপক্ষে মনে মনে যুক্তি সাজাই। শক্তির এই কেন্দ্র হতে পারে কোনও দেবতা, হতে পারে দৈবশক্তিধর কোনও বীরপুরুষ, হতে পারে অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন কোনও ডাইনি। কিংবা আধা মানুষ, আধা পশু জাতীয় কোনও রহস্যময় প্রাণী। এমন কি আকাশ থেকে ভেসে আসা কোনও দৈব বাণী হতে পারে বা কোনও অদ্ভুত গোলক।

327