মাতৃস্নেহের কাছে হার মানল করোনা-ভীতি। তাই হাসপাতালে আর কেউ রাজি না হলেও এক সদ্যোজাতকে স্তন্যপান করালেন তরুণী নার্সই । তিনি নিজেও কিছুদিন আগে মা হয়েছেন । কাজে যোগ দিয়েছেন লকডাউন শুরুর সামান্য আগে । তাই ছোট শিশুর খিদেতে কান্না তাঁকে আরো ব্যথিত করেছে বেশি। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে ঘটনাটা। জানা গেছে,
বৃহস্পতিবারই জন্ম নেওয়া এক শিশু সেদিন রাতে দুধের জন্য ছটফট করছিল । সি সেকশন করে সন্তানের জন্ম দেওয়া তার মায়ের পক্ষে তখনই তাকে দুধ খাওয়ানো সম্ভব ছিল না । এই রকম পরিস্থিতিতে হাসপাতালে সদ্য মা হওয়া অন্য প্রসুতিদের দিয়ে স্তন্যপান করানোটাই রীতি । কিন্তু করোনা সংক্রমণের ভয়ে অন্য কেউ শিশুটিকে দুধ খাওয়াতে এগিয়ে আসতে সাহস পাচ্ছিলেন না । অন্যদিকে বাচ্চাটির ও ছটপটানি বাড়ছিল খিদেতে। এই অবস্থায় হাসপাতালেরই এক নার্স নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি । তিনি জানান করোনা-ভীতির থেকে তখন অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল এক ফোটা দুধের জন্য সদ্যোজাত শিশুর আকুতি । সব রকম সাবধানতা অবলম্বন করেই তিনি শিশুটিকে দুধ খাওয়ান বলে জানিয়েছেন ।

তবে এক্ষেত্রে আরো একটি উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, নার্সিং স্টাফ হওয়ায় করোনা আতঙ্কে লকডাউনের প্রথম দিকে প্রতিবেশীদের হাতে হেনস্থা হতে হয়েছিল ওনাদের পুরো পরিবারকে । পাড়ায় সংক্রমণ ছড়াতে পারেন বলে আশঙ্কা করেন তাঁর প্রতিবেশীরা । ঘরে ছোট শিশু থাকায় টানা হাসপাতালে থেকে যাওয়াও সম্ভব হয়নি তখন তাঁর পক্ষে । অবশেষে অনেক ঝক্কি সামলে, থানায় অভিযোগ জানিয়ে, পরিবারের সবার মেডিক্যাল স্ক্রিনিং করিয়ে তবে সেই সমস্যা থেকে বেরোতে পেরেছিলেন তিনি । তবুও একজন সেবাব্রতী হিসেবে নিজের মানবিক ভূমিকা ভুলে যাননি তিনি। কুলিক পরিবারের পক্ষ থেকে অসংখ্য কুর্নিশ ওনাকে।

22